আংশিক তথ্যের ভিত্তিতে আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে: রাকসু
ফাইল ছবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ | ০১:৩৫ | আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৪০
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে আংশিক তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে রাকসু। সংগঠনটির ভাষ্য, চলমান কার্যবর্ষ শেষ হওয়ার আগে এবং সরকারি অডিট সম্পন্ন হওয়ার আগেই ব্যয়ের অসম্পূর্ণ হিসাব প্রকাশ করায় বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি করে রাকসু। এর আগে রাকসুর ব্যয়-সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশের পর ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
রাকসুর দাবি কী
বিবৃতিতে বলা হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর রাকসুর আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তহবিলে থাকা প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার মধ্যে ২ কোটি টাকা স্থায়ী আমানত (এফডিআর) হিসেবে রাখার এবং অবশিষ্ট প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা চলতি কার্যবর্ষে শিক্ষার্থী কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাকসুর ভাষ্য, বিভিন্ন শিক্ষার্থী কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, কার্যবর্ষ শেষে সেসব ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব সরকারি অডিটের আওতায় আসবে। তাই এখন প্রকাশিত কিছু তথ্য আংশিক এবং অসম্পূর্ণ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাকসুর কার্যবর্ষের এখনো প্রায় দুই মাস বাকি। এ সময়ে বিভিন্ন বিভাগের একাধিক কর্মসূচি চলমান থাকায় সব ব্যয়ের বিল-ভাউচার এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
যে প্রতিবেদন নিয়ে বিতর্ক
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মেয়াদে রাকসুর ৪২টি কর্মসূচিতে তহবিল থেকে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার জমা পড়েনি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এককভাবে ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন এবং তিন ধাপে নেওয়া ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ব্যয়ের কোনো হিসাব বা ভাউচার জমা দেননি।
জিএসের মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা
প্রতিবেদন প্রকাশের পর রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে এবং স্থানীয় একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। ‘রাজশাহী সমাচার’ নামের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আম্মার বলেন, ‘যে সাংবাদিক এই নিউজ করেছে তার কান ধরে কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে নিয়ে দেখাতে হবে কয় টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সেখানের তথ্যের সঙ্গে নিউজের তথ্যের কোনো মিল নেই।’ আরেকটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ভাউচার না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
এর আগে ‘সকাল বেলা’ প্রকাশিত প্রতিবেদন নিজের ফেসবুকে শেয়ার করে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন আম্মার। পরবর্তী সময়ে আরেকটি পোস্টে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সদৃশ একটি প্যাকেটের ছবি যুক্ত করে তিনি লেখেন, ‘রাকসুর তহবিলের টাকা মেরে খেয়েছে ভিপি, জিএস, এজিএস, সম্পাদকরা!! এখনো রাকসুর মেয়াদ শেষ হয়নি। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাদের অডিট হবে। জনগণের সামনে স্ব স্ব সম্পাদক নিজেদের হিসাব দেবেন। তারপর যা প্রশ্ন ওঠার উঠবে।’
এদিকে জিএসের ওই মন্তব্য নিয়েও ক্যাম্পাসে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রাকসুর বিবৃতিতে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।