ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজবাড়ীতে নতুন উপজেলার উদ্যোগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

রাজবাড়ীতে নতুন উপজেলার উদ্যোগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
×

 রাজবাড়ী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজবাড়ী সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে ‘পঞ্চকানন’ নামে নতুন একটি উপজেলা গঠনের প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত নতুন উপজেলার নাম এবং এর প্রশাসনিক সদরদপ্তরের স্থান নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত নিতে গত বুধবার সদর উপজেলার শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের নিমতলায় গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৩২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রাজবাড়ী সদর উপজেলার বর্তমান জনসংখ্যা ৩ লাখ ৩১ হাজার ৬৩১ জন। মোট ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই বৃহৎ উপজেলাটি ভেঙে খানখানাপুর, মূলঘর, শহীদ ওহাবপুর, বসন্তপুর ও সুলতানপুর–এই পাঁচটি ইউনিয়ন সমন্বয়ে নতুন ‘পঞ্চকানন’ উপজেলা গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
গণশুনানি নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পঞ্চকানন উপজেলা গঠন নিয়ে পাঁচটি ইউনিয়নের অবস্থান ভিন্ন ভিন্ন। খানখানাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন খান বলেন, ‘খানখানাপুর ব্যবসায়িক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে অনেক সমৃদ্ধ। এখানে পুরোনো রেল স্টেশন, মিনি স্টেডিয়াম, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও পর্যাপ্ত সরকারি জমি রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, নতুন উপজেলার নাম ‘খানখানাপুর’ হতে হবে এবং সদর দপ্তরও এখানেই করতে হবে।’

বসন্তপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, গণশুনানির আগে তাদের বিষয়টি জানানো হয়নি। নতুন উপজেলা নিয়ে তাদের বিশেষ আগ্রহ নেই। তাঁর ইউনিয়নের মানুষ নিমতলায় সদর দপ্তর চান না। তবে উপজেলার নাম পঞ্চকানন করণে সমর্থন দেন সুলতানপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান-২ জাহিদ প্রামাণিক ও শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বাবু শেখ। তারা জানান, প্রশাসনিক কাজ সহজ ও সুসংগঠিত করতে সদর উপজেলা ভেঙে নতুন উপজেলা গঠন একটি ভালো উদ্যোগ। নিমতলায় সদর দপ্তর বা ‘পঞ্চকানন’ নাম নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
মূলঘর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ফজলুল হক বলেন, ‘নিমতলায় সদর দপ্তর হলে আমাদের যোগাযোগের সমস্যা হবে। গোলন্দ মোড় থেকে ফেলুর দোকানের মাঝামাঝি দপ্তর করা উচিত।’ 
সদরের ইউএনও রুপমা রায় বলেন, ‘নতুন উপজেলা গঠনের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা আসার পর প্রথম ধাপ হিসেবে গণশুনানি করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও প্রতিনিধিরা যেসব মতামত, প্রস্তাব ও আপত্তি করেছেন, তার বিবরণী পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’

আরও পড়ুন

×