চাটমোহর
পদ্ম-শাপলার রাজ্যে এবার ফুলের আকাল
পদ্মবিলের চেনা সৌন্দর্য হারিয়েছে। ছবি: সমকাল
পাবনা অফিস
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৫০ | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৫২
বর্ষা এলেই পাবনার চাটমোহরের ডিকশি বিল হয়ে ওঠে পদ্ম-শাপলার রাজ্য। সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা গোলাপি ও সাদা ফুল দেখতে প্রতিবছর দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। ডিঙি নৌকায় চড়ে বিল ঘুরে দেখেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। তবে এবার সেই চেনা দৃশ্য অনেকটাই বদলে গেছে। বিলে পানি ও পদ্মপাতা থাকলেও ফুলের সংখ্যা কম। ফলে প্রত্যাশা নিয়ে আসা অনেক দর্শনার্থী হতাশ হয়ে ফিরছেন।
চাটমোহরের ফৈলজানা ও পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামজুড়ে বিস্তৃত ডিকশি বিল স্থানীয়দের কাছে পরিচিত হলেও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এটি ‘পদ্ম বিল’ নামেই বেশি পরিচিত। বর্ষায় বিলের সৌন্দর্য যেমন মানুষকে টানে, তেমনি নৌকা চালানো ও মাছ ধরার মাধ্যমে স্থানীয় অনেক মানুষের বাড়তি আয়ের সুযোগও তৈরি হয়।
স্থানীয় মাঝি শাহাদাত বলেন, আগে বর্ষায় ফুল দেখতে অনেক মানুষ আসত। এবার পদ্মফুল কম হওয়ায় দর্শনার্থীও কমেছে, নৌকা ভাড়ায়ও প্রভাব পড়েছে।
স্থানীয়দের মতে, কয়েক বছর ধরে বিলটিতে পদ্ম-শাপলার বিস্তৃতি কমছে। ক্ষতিকর জাল ও যন্ত্র দিয়ে মাছ ধরা, জলজ উদ্ভিদের গোড়া নষ্ট হওয়া, পানিদূষণ এবং আশপাশের কৃষিজমির সার-কীটনাশক পানিতে মিশে যাওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও পর্যাপ্ত পানি না থাকাও ফুল কমে যাওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে।
পদ্ম বিল দেখতে আসা হুমায়ুন কবির বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুলে ভরা বিলের ছবি দেখে এসেছি। ফুল কম পেলেও বিলের বিস্তীর্ণ সবুজ প্রকৃতি আমাকে মুগ্ধ করেছে। বিলের পরিবেশ রক্ষা করা গেলে পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের আয়ও বাড়তে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, ডিকশি বিলকে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে আগে এর জলজ পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। ক্ষতিকর জাল ও যন্ত্রের ব্যবহার বন্ধ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং দর্শনার্থীদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, ডিকশি বিল গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক জলাভূমি। পদ্ম-শাপলা রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। চায়না জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের ফুল না তোলা, পানিতে ময়লা না ফেলা এবং বিলের পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।