ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছেলেদের বিদেশ পাঠাতে ধারদেনা, ঋণের চাপে গৃহবধূর মৃত্যু

ছেলেদের বিদেশ পাঠাতে ধারদেনা, ঋণের চাপে গৃহবধূর মৃত্যু
×

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। ছবি: সমকাল

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:৪৮ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:৫৪

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঋণের টাকা পরিশোধের চাপে হনুফা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। রোববার সকালে পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভৈরব থানার এসআই হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচানো অবস্থায় হনুফা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত হনুফা বেগম ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার রিকশা গ্যারেজ মেকার আক্রাম হোসেনের স্ত্রী।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হনুফা বেগম তিন সন্তানের জননী। দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে ছোট ছেলে সায়মন এবং মেয়ের জামাইকে বিভিন্ন এনজিও ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে টাকা নিয়ে বিদেশে পাঠান। ছোট ছেলে বিদেশে গিয়ে সুবিধা করতে না পারায় পরে বড় ছেলে ইমরানকে বিদেশ পাঠানোর জন্য এক দালালকে টাকা দেন। তবে দালালচক্র ইমরানকে বিদেশে পাঠাতে পারেনি। সেই টাকাও ফেরত না পাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়ে পরিবারটি।

এদিকে বিভিন্ন এনজিওর কিস্তি পরিশোধের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও অন্যান্য পাওনাদারের টাকা ফেরত দেওয়ার চাপও ছিল। কয়েকদিন ধরে টাকা ধার করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে নিজ ঘরে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

নিহতের ভাই জামাল মিয়া বলেন, ভোরে ঘুম থেকে উঠে হনুফা তার স্বামীর সঙ্গে টাকা ধার করার জন্য বের হন। বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা করেও টাকা না পেয়ে সকালে বাড়িতে ফিরে নিজ ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে সেখানে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। গত কয়েকদিন ধরে টাকা ধার করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় গেলেও কোথাও টাকা পাননি।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন এনজিও ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে হনুফা প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা ধারদেনা করেছিলেন। সেই টাকার কিস্তি পরিশোধ ও পাওনাদারদের চাপের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে সহযোগিতা ও বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি স্বামী-সন্তানদের রেখে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

ভৈরব থানার এসআই হাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় হনুফা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ থানায় নেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঋণের চাপে ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আরও পড়ুন

×