ময়মনসিংহে চেম্বারে ঢুকে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় তরুণী গ্রেপ্তার
ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নারী আফরিন রশিদ সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:৪১ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:০২
ময়মনসিংহ নগরের জিলা স্কুল সংলগ্ন ‘ডক্টরস পেট কেয়ার’-এ ঢুকে ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নারী আফরিন রশিদ সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম।
এর আগে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছিল বাংলাদেশ ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন (বিভিএ)। সংগঠনটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জিলা স্কুল সংলগ্ন ‘ডক্টরস পেট কেয়ার’-এ ঢুকে চিকিৎসক ডা. মো. আশিকুর রহমানের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় একদল ব্যক্তি সিসিটিভি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে লোহার রড দিয়ে তাকে মারধর করেন। এ সময় তার স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকী, চেম্বারের কর্মী ঈশান আহমেদ ও তার স্ত্রী তাওহিয়া আক্তারকেও মারধর করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আফরিন রশিদ সেঁজুতি জুতা খুলে চিকিৎসককে মারধর করছেন। মহানগর ছাত্রদলের সদ্য বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করছেন এবং পরে নিজেও চিকিৎসককে কিল-ঘুষি মারছেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ক্যাশ বাক্স থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা নিয়ে যান। এ ছাড়া প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মালামাল ও সাইনবোর্ড ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে গত শুক্রবার প্রতিবাদলিপি দেয় বাংলাদেশ ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন (বিভিএ)। সংগঠনের আহ্বায়ক ডা. সফিউল আহাদ সরদার ও সদস্যসচিব ডা. মো. তারেক হোসেন স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, প্রাণিস্বাস্থ্য ও মানবস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের ওপর হামলা, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তারা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
বিভিএ বলেছে, সেবা নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু নিজের হাতে আইন তুলে নিয়ে চিকিৎসকদের লাঞ্ছিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংগঠনটি ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়।