ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুর

পাশাপাশি চিতায় উঠল পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ 

পাশাপাশি চিতায় উঠল পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ 
×

ছবি-সংগৃহীত

মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ | ০১:২৬ | আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:৪১

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। রোববার রাত ৮টার দিকে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চারটি মরদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো নিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর দখীগঞ্জ মহাশ্মশানে পৌঁছান স্বজনরা। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মহাশ্মশানে চার মরদেহের দাহকার্য শেষ করা হয়।

দাহ অনুষ্ঠানে গণপতি চক্রবর্তীর দুই বড় ভাই গোপাল চক্রবর্তী ও গোপীনাথ চক্রবর্তীসহ তাঁদের আত্নীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। 

নিহতের স্বজনরা জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে মরদেহগুলো হাসপাতাল থেকে দখীগঞ্জ মহাশ্মশানে আনা হয়। এরপর মরদেহগুলো স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। পরপর চারটি চিতায় চারজনের মরদেহ তোলা হয়। স্বজনরাই মুখাগ্নি করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দাহকার্য শেষ হয়।

দাহকার্যের সঙ্গে যুক্ত একজন জানান, তার জীবনে এ ধরনের দৃশ্য কখনও তিনি দেখেননি। একই পরিবারের চারজনকে এক সঙ্গে দাহ করা অনেক কষ্টের। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একসঙ্গে চারজনকে চিতায় তোলার সময় সেখানে স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ সময় অন্যরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। চিতায় আগুন দেওয়ার সময় স্বজনরা নিহতদের নাম ধরে বিলাপ করছিলেন।

শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকে পরিবারটির সঙ্গে স্বজনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে শনিবার রাতে বাসায় গিয়ে চারটি মরদেহ পায় পুলিশ।

আরও পড়ুন

×