চাঁদা না পেয়ে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণকোলা গ্রামে চাঁদা না দেওয়ায় এক ওয়ার্কশপ মালিকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা। ছবি: সমকাল
আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ | ১০:২৫
চাঁদা না দেওয়ায় চোর সন্দেহে ভুয়া অপবাদ তুলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণকোলা গ্রামে ঘটা এই তাণ্ডবের মূল অভিযুক্ত রাজু হোসেনকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া মামলায় দোকান ও বসতবাড়ি থেকে নগদ সাত লাখ টাকাসহ প্রায় ১৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি ও মালাপত্র লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৯ আগস্ট। বুড়াপুকুর এলাকার সাগর হোসেন নামে এক ব্যক্তির বাড়ির তালা কেটে ইজিবাইক চুরির ঘটনা থেকে। গত শুক্রবার রাতে চোর সন্দেহে সাদ্দাম, বিদ্যুৎ ও তুহিন নামে তিনজনকে স্থানীয়রা আটক করে চারদীঘি গ্রামের রাজু হোসেনের হাতে তুলে দেন। পরদিন সকালে প্রকাশ্য সালিশে আটকরা স্বীকার করেন, তারা চুরি করা ইজিবাইকটি কৃষ্ণকোলা গ্রামের ‘ভাই-ভাই
ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ’-এ বিক্রি করেছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই রাজুর নেতৃত্বে তিন শতাধিক উত্তেজিত মানুষ জড়ো হয়ে ওই ওয়ার্কশপ ও মালিকের বাড়িতে চড়াও হন।
তবে হামলার শিকার ব্যবসায়ী আল আমিন ও আজাদ হোসেনের পরিবার একে পরিকল্পিত চাঁদাবাজি ও শত্রুতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভুক্তভোগীদের বাবা কাশেম আলী গতকাল রোববার আক্কেলপুর থানায় মামলা করেন। সেখানে উল্লেখ করেন, চারদীঘি গ্রামের রাজু কিছু দিন আগে পিকনিকের অজুহাতে তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় সে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। সেই আক্রোশ থেকেই ইজিবাইকের মিথ্যা অপবাদ সাজিয়ে উস্কানি দিয়ে তিন শতাধিক মানুষকে নিয়ে তাদের ওয়ার্কশপ, বাড়ি, চারটি ট্রাক্টর ও শ্যালো মেশিনে তাণ্ডব চালানো হয়।
ভাঙচুরের পাশাপাশি বাড়ি থেকে নগদ সাত লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও দোকানের দামি যন্ত্রাংশসহ প্রায় ১৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক তিন সন্দেহভাজনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে এবং ১৫১ ধারায় আদালতে সোপর্দ করে। পরে তারা জামিন পান।
গ্রেপ্তার হওয়ার আগে চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত রাজু দাবি করেন, চোরদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ীই গ্রামবাসী নিয়ে সেখানে যাওয়া হয়েছিল, সেখানে কোনো লুটপাট হয়নি।
থানার ওসি শাহীন রেজা জানান, প্রাথমিক তদন্তে চুরির অজুহাতে একটি পক্ষ অবৈধভাবে ‘মব’ সৃষ্টি করে বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। অভিযুক্ত রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
- বিষয় :
- জয়পুরহাট