রাকসুর ১০ মাস পার, গঠনতন্ত্র মানা হয়নি অডিটে
ফাইল ছবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ | ১৭:৫৪
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) কার্যক্রম তদারকির জন্য গঠনতন্ত্রে বছরে দুইবার অডিট করার বিধান রয়েছে। তবে বর্তমান কমিটির মেয়াদ প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো অডিট কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। এতে রাকসুর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রাকসুর গঠনতন্ত্রের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রাকসুর সভাপতি মনোনীত দুজন শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষকে নিয়ে অডিট বোর্ড গঠিত হবে। এই বোর্ড বছরে দুইবার রাকসুর হিসাব নিরীক্ষা করবে। রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) অডিট বোর্ডের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে তিনি বোর্ডের সদস্য থাকবেন না।
গত ১৬ অক্টোবর রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বর্তমান কমিটির মেয়াদ প্রায় ১০ মাস হলেও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো অডিট হয়নি। এরই মধ্যে রাকসুর প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে বিল-ভাউচার জমা না দিয়েই অন্তত ৬০ লাখ টাকা খরচের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকা খরচের বিল-ভাউচার জমা না দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রাকসু নেতারা অবশ্য বলছেন, অডিটের আগেই সংশ্লিষ্ট সব বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হবে এবং হিসাবের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, অডিট না হওয়ার পেছনে বিশেষ কোনো কারণ নেই। তবে মেয়াদের শেষ দিকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী অডিট টিমের মাধ্যমে রাকসুর কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে।
রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, গঠনতন্ত্রে বছরে দুইবার অডিটের কথা থাকলেও দীর্ঘদিন রাকসুর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। নতুন করে কার্যক্রম শুরু করার পর সবকিছু বুঝে নিতে এবং বাজেট পেতে প্রায় ছয় মাস সময় লেগেছে। ফলে প্রথম ছয় মাসে রাকসুর কার্যক্রম সেভাবে শুরু করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, ‘পরবর্তী ছয় মাসে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে অডিট করা সম্ভব হয়নি।’
রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, বিভিন্ন কারণে কার্যক্রম শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি তার জায়গা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রশ্ন
গঠনতন্ত্রে নির্ধারিত সময়ে অডিট না হওয়ায় রাকসুর অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন।
গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের মুখপাত্র ও শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, রাকসুর সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় রাখতে পারেননি। একই সঙ্গে বছরে দুইবার অডিট করার নিয়মও বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে ভাউচার-সংক্রান্ত অনিয়মের দায় তাদের ওপরও বর্তায়।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, নিয়মিত অডিটের হিসাব প্রকাশ ও উপস্থাপন না করা হলে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এরই মধ্যে অর্থ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতির অভিযোগ সামনে এসেছে। তাই রাকসুর অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং বর্তমান কোষাধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ বলেন, ছয় মাস পরপর নিয়মিত অডিট হলে বর্তমানে ভাউচার নিয়ে যে প্রশ্ন ও সংকট তৈরি হয়েছে, তা হয়তো এতটা বড় আকার ধারণ করত না। অডিট না হওয়ায় রাকসুর আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রাকসুর নেতাদের বিপুল বরাদ্দ গ্রহণের পরও ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকা খরচের বিল-ভাউচার জমা না দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।