২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ
জামায়াত এমপির পিএসসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৫২ | আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬ | ২১:১০
২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আরমান উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। চাঁদা না দেওয়ায় একটি দোকানের তালা ভেঙে ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকার মালামাল লুট এবং মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে মামলায়।
রোববার চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লোহাগাড়া উপজেলার পশ্চিম কলাউজান এলাকার বাসিন্দা প্রবাসী আমির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় আরমান উদ্দিনের ভাই আরিফ উদ্দিন (৩৭), শওকত আলী (৪২), আদিল (৩২), আনোয়ার (২৮) ও জয়নাল আবেদীনকে (৩৩) আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। বাদীও জামায়াত সমর্থক বলে জানা গেছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আদনান কবির জিলান বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নিকটস্থ সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।
মামলার আরজিতে বলা হয়, লোহাগাড়া উপজেলার আজিজ কমপ্লেক্স নামে চারতলা ভবনটি বাদী আমির হোসেন নিজের কেনা জমিতে ২০০৬-০৭ সালের দিকে নির্মাণ করেন। ভবনের নিচতলায় একটি আলমারির দোকান এবং অন্য অংশে বসতঘর ভাড়া দেওয়া হয়েছে। কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে তাঁর ভাই আরিফ উদ্দিন বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দিলে ভবন ও মার্কেট দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
আরজিতে আরও বলা হয়, গত ৩ এপ্রিল রাত ২টার দিকে আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীর কাছে ফের চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঘর দখলের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ওই রাতেই আসামিরা আজিজ কমপ্লেক্সের নিচতলায় বাদীর ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। সেখান থেকে ১৭টি স্টিলের আলমারি, ছয়টি চার দরজার ওয়াল শোকেস, দুটি দুই পাশের দরজার ওয়াল শোকেস, আলমারি শিটসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যান। এসবের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা। এ ছাড়া দোকানে থাকা এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ক্যাশ টেবিলও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পরে দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামিরা ভবনের ভাড়াটিয়াদের কাছে গিয়ে ভবিষ্যতে যেন তাঁদের কাছে বাসা ভাড়া না দেওয়া হয়, সে জন্য হুমকি দেন। ঘটনার সময় আমির হোসেন প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে বৈঠক করেন। গত ২০ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে বাদীর ভবনে বৈঠক বসে। সেখানে আরিফ উদ্দিন আবারও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে দোকান ও ঘরের দখল ছেড়ে দিতে বলেন। একপর্যায়ে আরিফ উদ্দিন, শওকত আলী, আরমান উদ্দিন ও আদিল তাঁকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। পরে আরমান উদ্দিন ফোনে তাঁকে এলাকায় বসবাস করতে হলে তাঁদের কথামতো চলতে হবে বলে হুমকি দেন। আদিল চাঁদা না দিলে তাঁকে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রবাসী আমির হোসেন বলেন, ‘২০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে মারধর করা হয়েছে। খুন করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বাড়ি দখলের চেষ্টা করছে। আরমানসহ অন্য আসামিরা দোকানের মালামাল জোর করে নিয়ে গেছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আরমান উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। আমির হোসেনের কাছে কোনো চাঁদা দাবি করিনি। ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’
বাদীর অভিযোগ, ঘটনার পর তিনি লোহাগাড়া থানায় গিয়ে মারধরকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পুলিশ মামলা নেওয়ার কথা বলে ঘটনাস্থলেও যায়। পরে মামলা গ্রহণ না করায় আদালতে মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
থানায় মামলা না নেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে লোহাগাড়া থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহর মোবাইলে ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
- বিষয় :
- জামায়াতে ইসলামী
- এমপি
- চাঁদা দাবি
- মামলা
- আদালত