ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাছ কাটার সংখ্যা ও দাম নির্ধারণেও অনিয়ম

গাছ কাটার সংখ্যা ও দাম নির্ধারণেও অনিয়ম
×

সুনামগঞ্জে কেটে রাখা সাচনা-জামালগঞ্জ সড়কের পাশের ছায়া গাছ ফাইল ছবি

 সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৩১

| প্রিন্ট সংস্করণ

সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কে কাটা গাছের সঠিক সংখ্যা ও দাম নির্ধারণ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। বন বিভাগের মতে ৬৮০টি গাছ কাটা হলেও স্থানীয়দের দাবি, এই সংখ্যা ৮০০ থেকে ৯০০।
এদিকে সামাজিক বনায়নের আওতায় রোপিত এসব গাছের দরপত্র আহ্বানে লুটপাটের কারসাজি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এদিকে চলমান পরিস্থিতিতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সড়কের পাশের এসব গাছ কাটার বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করেছে।

বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর নির্দেশে গতকাল সোমবার সিলেট বন বিভাগের কর্মকর্তারা সড়কের টুকের বাজার থেকে সাচনা বাজারমুখী অংশে ভিডিও ফুটেজ ধারণ ও গাছের গণনা পরিচালনা করেন। জেলা বন কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন জানান, তাদের হিসাবে কাটা গাছের সংখ্যা ৬৮০টি। এরই মধ্যে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও ভিডিও চিত্রসহ যাবতীয় তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে।
গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী সংশ্লিষ্টদের এই হিসাব সঠিক নয় দাবি করে জানান, বাস্তবে সড়কের পাশ থেকে অন্তর ৮০০ থেকে ৯০০টি গাছ কাটা হয়েছে। এ ছাড়া তিনি দরপত্রের অসংগতি তুলে ধরে বলেন, চার হাজার ৪৬৮টি গাছের জন্য ঠিকাদার দিয়েছে ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে প্রতি গাছের গড় দাম ধরা হয়েছে মাত্র এক হাজার ৮৯৭ টাকা, যা হাস্যকর। কাটা পড়া অনেক গাছের একেকটির বাজারমূল্য অন্তত ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এমনকি যে গাছগুলো আকারে ছোট; সেগুলোর এক একটির দাম অন্তত ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা। গাছের ডালের দামও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি হবে।

ওই জনপ্রতিনিধি আরও জানান, ২০০৪ সালে গঠিত ১০০ সদস্যের সুবিধাভোগী কমিটি এই গাছগুলো লালনপালন করলেও তারা লভ্যাংশ পাবেন কিনা– তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
গত রোববার সাড়ে চার হাজার গাছে পড়েছে লোভের কোড়াল শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর সুনামগঞ্জে গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) পক্ষ থেকে সড়ক প্রশস্তকরণের কোনো পরিকল্পনা বা নির্দেশনার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া কীভাবে গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হলো, তা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ২০০৪ সালে সামাজিক বনায়নের আওতায় লাগানো প্রায় ২০ হাজার গাছ কাটার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ও পরিবেশবাদীরা। গতকাল সোমবার হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে বনায়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফেরানো ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

×