বিল দিতে না পারলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার দাবি
গ্যাস-বিদ্যুতের বিল দিতে না পারলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেয় নিট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সমকাল
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:০০
| প্রিন্ট সংস্করণ
গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে উৎপাদনে ধস নেমেছে নিট ডাইং ও টেক্সটাইল মিলগুলোতে। এ পরিস্থিতিতে বিল দিতে না পারলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার দাবি জানিয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও তিতাস গ্যাস অফিসের মহাব্যবস্থাপকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ নিট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
এ সময় তারা গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট নিরসন, গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণেরও দাবি জানান। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সংগঠনের সভাপতি আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে
ব্যবসায়ীরা এই স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী খাত হচ্ছে নিট ডাইং শিল্প। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, শিল্পায়ন ও বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে তারা। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তীব্র গ্যাস সংকট ও ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে ডাইং শিল্পকারখানাগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও গ্যাসের চাপ একেবারে কম, কোথাও অনিয়মিত, আবার কোথাও একেবারে বন্ধ রয়েছে। ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদনক্ষমতা অনেক কমে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে উৎপাদন বন্ধ রাখছে। ডাইং, ফিনিশিং, বয়লারসহ বিভিন্ন উৎপাদন প্রক্রিয়া গ্যাসের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়া বার বার বন্ধ ও চালু করতে হচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিদেশি ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে একদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে অর্ডার বাতিল হয়ে ক্রেতা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা যাচ্ছে না। তীব্র গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ নিট ডাইং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের দাবি, চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কোনো কারখানার মালিক যদি নির্দিষ্ট সময়ে বিল পরিশোধে ব্যর্থ হন, তবে বকেয়া বিলের জন্য যেন গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা হয়।
এ সময় ছিলেন সংগঠনের সভাপতি আমজাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সহসভাপতি মোর্শদ সারোয়ার সোহেল, ডাইং অ্যাসোসিয়েশনের সহসভপতি জিএম হায়দার আলী বাবলু, সহসভপতি এম নাছির উদ্দিন, সদস্য হাসনাত কবির, শাহজাহান, মহসিন রাব্বানী, কাজী নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
- বিষয় :
- গ্যাস