ব্যবসায়ী পরিবারের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না, উৎকণ্ঠায় পাওনাদাররা
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
চাঁদপুর শহরের ‘এস কে শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গত ১৯ আগস্ট রাত থেকে পরিবারটির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তারা আত্মগোপন করে থাকতে পারে বলে ধারণা করেছে পুলিশ ও এলাকাবাসী।
জানা গেছে, পিন্টু দাসের কাছে অনেকেই স্বর্ণ বন্ধক রাখতেন এবং সুদে টাকা নিয়ে ব্যবসা করতেন। তাঁর হদিস না পাওয়ায় বন্ধক রাখা স্বর্ণের মালিক এবং আর্থিক লেনদেনে জড়িতদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। থানায় অভিযোগ করছেন পাওনাদাররা। পরিবারটির সন্ধানে মাঠে কাজ করছে পুলিশ।
গত বুধবার পিন্টু দাসের আত্মীয় ও চাঁদপুর শহরের গুয়াখোলা রোডের বাসিন্দা উপমা দে বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে জানান। পলাতক বা নিখোঁজের অভিযোগ ওঠা পরিবারের সদস্যরা হলেন– পিন্টু দাস, তাঁর স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম ও ছোট ছেলে রুপম দাস। তারা চাঁদপুর শহরের কালিবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। বাসার মালিক থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভাড়া বাসার মালিক গফুর খানের ছেলে রাসেল খান জানান, গত বছর ডিসেম্বর মাসে পিন্টু দাস তাদের বাসার ৪ তলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। গত ৮ মাসের ভাড়া পরিশোধ করেছেন। তার কাছে চলতি মাসের ভাড়া পাওনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে পিন্টু দাসের ১৯ আগস্টের আগে দেখা হয়েছিল। তো গত বৃহস্পতিবার থেকে তাঁর তালাবদ্ধ বাসায় পাওনাদাররা আসতে থাকেন। আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম, হয়তো কোথাও গেছেন। কিন্তু যখন দেখলাম, দিন গড়িয়ে যাচ্ছে, পাওনাদাররা আসছেন, তখন আমাদের সন্দেহ হয়– তিনি কোথাও চলে গেছেন।’ পরে থানায় জিডি করেন তিনি।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির ভাষ্য, পিন্টু দাস স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অনেকের স্বর্ণ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসা করতে গিয়ে বিভিন্ন সমিতি থেকেও ঋণ নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন তিনি।
রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান বলেন, তিনি পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু দাস তাঁকে পরদিন আসতে বলেন। এরপর তিনি জানতে পারেন, পিন্টু দাসের পরিবারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনায় চাঁদপুর সদর থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি।
দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন। তারাও বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়রা জানান, পাঁচ-ছয় মাস আগে আখন্দ মার্কেটে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন পিন্টু দাস। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়; শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লা। পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হঠাৎ খুঁজে না পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। কেউ বলছেন আত্মগোপন করেছেন, কেউ বলছেন পরিবারটি নিখোঁজ। সব দিক আমলে নিয়ে পরিবারটি খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চাঁদপুর জুয়েলারি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মোস্তফা (ফুল মিয়া) বলেন, পিন্টু দাস তাদের সমিতির সদস্য। তিনি স্বর্ণালংকার বন্ধকি ব্যবসা করতেন বলে জানা গেছে। তিনি গা-ঢাকা দিয়ে থাকতে পারেন। তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, গত বুধবার রাতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসের ভাড়া বাসায় যান তারা। সেখানে দেখা গেল টিভি, ফ্রিজ, আসবাব কিছু নেই। তাঁর ভাষ্য, সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে গত ১৯ আগস্ট রাত ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে এই বাসার সামনে একটি ট্রাকে মালপত্র নেওয়া হচ্ছে। বাসা ছাড়ার পর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাঁকে খুঁজে বের করতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।
সদর থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ জানান, পরিবারটির চার সদস্যকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না– এমন বিষয় জানার পর থেকেই তৎপর তারা। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ থানায় জিডি করেনি। তবে কয়েক দিন আগে বাড়িওয়ালা একটি জিডি করেছেন। পাওনাদাররাও নালিশ করছেন; কেউ জিডি করছেন। তাঁর দোকানটি এখনও বন্ধ। তাঁর সঙ্গে যাদের লেনদেন ছিল, তাদের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ।
- বিষয় :
- ব্যবসায়ী