ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
×

ফাইল ছবি

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ০৫:১৩

রাজশাহীর দুর্গাপুরে মোবাইল ফোন ও টাকা চুরির অভিযোগে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন শিশুটির বাবা।

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পানানগর ইউনিয়নের মহিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার রিয়াজুল ইসলাম রিফাত (১২) খাসখামার গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি আমগাছের সঙ্গে রশি দিয়ে রিফাতকে বেঁধে রাখা হয়েছে। কয়েকজন তাকে মোবাইল ফোন চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এ সময় শিশুটিকে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তাকে ভয় দেখিয়ে নখ কেটে দেওয়ার কথা বলতেও শোনা যায়।

শিশুটির বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, রিফাত মহিপাড়া গ্রামে তার নানির বাড়িতে থাকত। প্রায় ২০ দিন আগে একটি মোবাইল ফোন ও ৯০০ টাকা নিয়ে সে ঢাকায় চলে যায়। প্রায় পাঁচ দিন আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে আসে।

তিনি বলেন, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে মহিপাড়া গ্রামের বাবু হোসেনসহ কয়েকজন রিফাতকে নিয়ে যান। পরে বেলা ১১টার দিকে তাঁরা তাকে বাড়িতে দিয়ে যান। এরপর তিনি জানতে পারেন, তাঁর ছেলেকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোন ও টাকা চুরির স্বীকারোক্তিও নেওয়া হয়েছে।

আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, নির্যাতনের সময় তাঁর ছেলে পানি চাইলেও তাকে পানি দেওয়া হয়নি।

রিফাতের দাবি, বাবু হোসেন ও রাজীব নামের দুজন তাকে মারধর করেন এবং কী বলতে হবে, তা শিখিয়ে দেন।

তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রিফাতকে মোবাইল ফোন চুরির কথা স্বীকার করতে দেখা যায়। সেখানে সে জানায়, চুরি করা মোবাইলটি ঢাকার একটি দোকানে রেখে এসেছে এবং চুরি করা টাকা দিয়ে খাবার কিনে খেয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বাবু হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তিনি আত্মগোপনে থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় শুক্রবার দিবাগত রাতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।

আরও পড়ুন

×