ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাবি শিক্ষক সুজন সেনকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

রাবি শিক্ষক সুজন সেনকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
×

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ | ২০:১৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের পদাবনতি ও অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক ড. সুজন সেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন চারুকলা অনুষদের ছাপচিত্র ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ভবনে চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সামনে অবস্থান এ কর্মসূচি শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘বিচারের নামে প্রহসন, মানি না মানব না’, ‘এক দফা এক দাবি, সুজন তুই কবে যাবি’, ‘অভিযোগ প্রমাণিত, শাস্তি কেন সীমিত’ ও ‘সুজনের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।

কর্মসূচিতে ছাপচিত্র ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী আছিয়া খাতুন বলেন, ‘দীর্ঘ দুই বছর ধরে আমাদের বিভাগের শিক্ষক ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, শিক্ষার্থী হয়রানি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ জানিয়ে আমরা ২০০ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলাম। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত সিন্ডিকেটে প্রশাসন তাকে পদাবনতি দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য অব্যাহতি দিয়েছে, যা নামমাত্র শাস্তি। এর ফলে তিনি পাঁচ বছর বসে বসেই বেতন-ভাতা পাবেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধান অনুযায়ী কোনো শিক্ষকের নৈতিক স্খলন ঘটলে তাকে চাকরিচ্যুত করার নিয়ম রয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনেও সুজন সেনের আচরণকে নৈতিক স্খলন হিসেবে উল্লেখ করে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু সিন্ডিকেটে তা না করে কেবল পদাবনতি ও পাঁচ বছরের অব্যাহতি দেওয়া হয়। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনকে তার স্থায়ী বহিষ্কারের স্পষ্ট রূপরেখা দিতে হবে। অন্যথায় আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’

একই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সারোয়ার জাহান বলেন, ‘একজন দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষকের শাস্তি এত কম কীভাবে হয়, তা নিয়ে আমরা সন্দিহান। আমাদের দাবি দুটি তার বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।’

অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট পছন্দের শিক্ষার্থীকে সুবিধা দেওয়া, আর্থিক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে সুজন সেনকে চিত্রকলা বিভাগে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। পরে একই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ছাত্র উপদেষ্টা ও বিভাগের সভাপতির কাছে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে সুজন সেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন শিক্ষার্থীরা। এতে তার বিরুদ্ধে প্রাধ্যক্ষ থাকার সময় হলে চার হাজার ২০০ টাকা ব্যয়ে দুটি টিস্যু বক্স কেনা, তিন বছরে চার লাখ ১৮ হাজার ৮৯০ টাকা নাশতার বিল দেখানো, ইন্টারনেট ও লাইব্রেরি তহবিলে অনিয়ম, নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে হলের মালপত্র ক্রয়, ছাত্রকল্যাণ তহবিলের টাকা আত্মসাৎ, বঙ্গবন্ধু কর্নার নির্মাণে আর্থিক অনিয়মসহ অন্তত ১৫টি অভিযোগ করা হয়।

পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর বিভাগের জরুরি একাডেমিক সভায় আনীত অভিযোগের তদন্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সুজন সেনকে বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে একই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত শেষে কমিটি তার আচরণকে নৈতিক স্খলন হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেয়। পরে অধিকতর তদন্তে সাবেক সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত ১৩ আগস্টে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় সুজন সেনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৮ আগস্ট সুজন সেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে স্মারকলিপি দেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে আজ ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করেন শিক্ষার্থীরা। 

তাদের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘প্রথমত সিন্ডিকেট তাকে কোনো শাস্তি দেয়নি। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ সিন্ডিকেটর সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত সিন্ডিকেট সভায় কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে, সেই সিদ্ধান্তের রিভিউয়ের জন্য পরবর্তী সিন্ডিকেট সভা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে কোনো সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। আমরা পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় তাদের দাবিটি এজেন্ডায় দেব। সভায় সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

×