ঢাকা রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাগেরহাটে ট্রিপল মার্ডার: পরকীয়ার কারণে হত্যা, বলছে পুলিশ 

বাগেরহাটে ট্রিপল মার্ডার: পরকীয়ার কারণে হত্যা, বলছে পুলিশ 
×

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:২৫

বাগেরহাটের কচুয়ায় মা, ছেলে ও নানীকে হত্যার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা একই এলাকার বাসিন্দা এবং পরস্পর নিকটাত্মীয়। পরকীয়ার কারণে সৃষ্ট বিবাদ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

আজ রোববার দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার মজিদ হাওলাদারের ছেলে রাজমিস্ত্রি জাহিদুল ইসলাম, সুলতান সেকের ছেলে আসাদুল শেখ এবং বারিক হাওলাদারের ছেলে মোহাম্মদ আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবু। তাদের কাছ থেকে নিহতদের ব্যবহৃত চারটি মুঠোফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় সোর্স ও গোয়েন্দা নজর দারির মাধ্যমে হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তৎপর ছিল। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার রাতে কচুয়া উপজেলার চান্দেরখোলা গ্রাম থেকে আসাদুল শেখ নামের আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরিফ হাওলাদার বাবু নামের আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে জাহিদুল নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, জাহিদুলের সঙ্গে হত্যার শিকার পরিবারের এক নারীর পরকীয়া প্রেম ছিল। তার সঙ্গে হত্যার শিকার মুনিরা বেগমেরও বাকবিতণ্ডা হয়। এ কারণে জাহিদুল পরিবারটিকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং সেই অনুযায়ী আসাদুল ও আরিফকে সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

এর আগে, ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় কচুয়া উপজেলার চান্দেরখোলা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে একই পরিবারের তিন জনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর দুই দিন আগে অর্থাৎ, ২ আগস্ট বিকেল বিকেল থেকে তাদের কোনো খোঁজ ছিল না। ওই দিন রাতেই হত্যার শিকার আহাদের বড় ভাই ফয়সাল হাওলাদার অজ্ঞাতনামা আসামি করে কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত তিনজন হলেন- চান্দেরকোলা গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের ছেলে আহাদ হাওলাদার , আহাদের মা মনিরা বেগম, আহাদের নানী রাশিদা বেগম। রাশিদা বেগম বাগেরহাট সদর উপজেলার বৃষ্টিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশীদের স্ত্রী। মৃতদেহ উদ্ধারের পরদিন ৫ আগস্ট তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুন

×