ঢাকা রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চিফ প্রসিকিউটর

গুমের সঙ্গে জড়িতরা অত্যন্ত শক্তিশালী ও দুষ্কৃতকারী

গুমের সঙ্গে জড়িতরা অত্যন্ত শক্তিশালী ও দুষ্কৃতকারী
×

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৩৫ | আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৩৬

গুমের সঙ্গে জড়িতরা অত্যন্ত শক্তিশালী ও দুষ্কৃকারী বলে উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, অপরাধীদের বন্ধু মনে করার কোনো কারণ নেই। কারণ, তারা যে কোনো সময় আমাদের ছোবল মারতে পারে। এটি লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করছি। 

আজ রোববার নিজ কার্যালয়ের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সারাদেশে ২৫১ জন গুম হওয়ার ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরাও একে একে জবানবন্দি দিচ্ছেন। এ কারণে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়টি আমরা খেয়াল করছি।

এদিন গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলির নেতৃত্বে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গুমের শিকার ৫৫টি পরিবারের সদস্যরা আসেন এবং বৈঠক করেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গুমের এসব ঘটনাকে আমরা ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেম্যাটিক অ্যাটাক বলে আখ্যায়িত করেছি। কারণ, প্রত্যেকটি ঘটনার একটির সঙ্গে আরেকটির মিল রয়েছে। এ কারণে ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেম্যাটিক হিসেবে চিহ্নিত করে এসব মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছি। 

তিনি বলেন, গুম নিয়ে যখনই তদন্ত শুরু হয়েছে, তখনই কিছু কিছু অপরাধীদের তৎপরতাও বেড়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ট্রাইব্যুনালে যাদের বিরুদ্ধে এখন বিচার চলছে, তাদের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।  

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, চিহ্নিত আসামিরা যেন কোনোভাবেই  ট্রাইব্যুনালের বাইরে-ভেতরে, কিংবা আসামিদের আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে হোক অথবা আমাদের গুম পরিবারের কোনো সদস্যদের যারা সাক্ষ্য দিচ্ছেন বা দেবেন, তাদের ওপর আক্রমণ করতে না পারে সেজন্য নিরাপত্তা চেয়ে সরকারের কাছেও আবেদন জানিয়েছি। গুমের মামলায় তদন্ত আগের তুলনায় অনেক বেশি গতিশীল হয়েছে। 

সরকারের কাছে নতুন করে কেন সহায়তা চাইতে হচ্ছে—এমন প্রশ্নে আমিনুল ইসলাম বলেন, এরই মধ্যে ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আমাদের এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যারা কাজ করেন, তাদের সতর্ক করেছি। কিছু কিছু আসামিদের গতিবিধি ও তৎপরতা আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। আমাদের কাছে গোপন তথ্য আছে যে, তারা যেকোনো স্যাবোটাজ বা নাশকাতামূলক কোনো ঘটনা ঘটাতে পারে। এ কারণেই সরকারকেও সচেতন থাকতে হবে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এসব কিছু বিচার-বিশ্লেষণ করেই কাজ করা হচ্ছে। 


গুম প্রতিরোধ আইন প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এরই মধ্যে গুম প্রতিরোধ এবং প্রতিকার আইন নামে একটি আইন হতে যাচ্ছে। এটি অত্যন্ত যুগোপযোগী আইন। এর মাধ্যমে সারা দেশে হওয়া গুমের বিচার হয়তো অন্য মাত্রার একটি গতি পাবে।
 

আরও পড়ুন

×