ইবিতে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা: জানা গেল ১৯ অস্ত্রধারীর পরিচয়
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:২৩
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল নেতা কর্তৃক শিবির নেতাকে থাপ্পড় দেওয়ার জেরে গতকাল শনিবার দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারসহ বহিরাগত প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছে প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে তারা। প্রতিবেদন জমা হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনার সময় ছাত্রদল প্রধান ফটকে অবস্থান নিলে তাদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধারালো দেশীয় অস্ত্রসহ মহড়া দিতে দেখা যায়। ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার অন্তত ১৯ জন অস্ত্রধারীর পরিচয় পাওয়া গেছে।
ঘটনার ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণে দেখা যায়, অস্ত্রধারীদের মধ্যে ছিল পদমদি গ্রামের বিএনপিকর্মী মানওয়ার, যুবদলের হামিম, সানওয়ার ও রাজিব, পদমদির ইমন বিশ্বাস, শীতলডাঙার শিমুল, জাঙ্গালিয়া পশ্চিমপাড়ার শাহজাহান খন্দকারের ছেলে সাগর খন্দকার, আনন্দনগরের নাহিদ ও বাধন, শেখপাড়ার জিম মণ্ডল, নিবিড় মণ্ডল, সাইফুল, হিমেস, তৌহিদ, রাতুল জোর্দার ও সোহাগ, ডিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হৃদয়, মদনডাঙা হাই স্কুলের এসএসসি ২৬ ব্যাচের রাইসুল (পদমদি) এবং ১০ম শ্রেণির মিকদাদ (চরশান্তিডাঙা)।
ঘটনার বিষয়ে পদমদির বিএনপিকর্মী মানওয়ার বলেন, ‘সেখানে গিয়েছিলাম, কিন্তু ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করিনি। স্থানীয় জামায়াত উস্কানি দেওয়ায় আমরা তাদের ধাওয়া দিয়েছিলাম। ওখানে কয়েকটি ইউনিয়নের বিএনপি-যুবদলের নেতাকর্মীরা ছিল।’
হাতে অস্ত্র থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওখানে আমাদের হাতে লাঠি ছিল, কোনো অস্ত্র ছিল না। ওখানে পাঁচ-সাতটা ইউনিয়নের নেতাকর্মী ছিল, হয়তো এরমধ্যে কেউ হতে পারে অথবা ক্যাম্পাসের ছাত্রদলেরও হতে পারে। আমি তো সবাইকে চিনি না।’
এছাড়া এ বিষয়ে পরিচয় শনাক্ত হওয়া অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ বলেন, ‘আমরা কোনো বহিরাগত নিয়ে আসিনি। এ বিষয়ে জানি না। ওটা বিক্ষুব্ধ জনতা হয়তো আসতে পারে। সম্পূর্ণ ঘটনার বিষয়ে প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পুরো ঘটনা তদন্তের জন্য আমরা প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখছি। কমিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
ঘটনার পর থমথমে ক্যাম্পাস, বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার
এদিকে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যাম্পাসে এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকসহ সকল প্রবেশ পথে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অবগত করে শনিবার মধ্যরাত থেকে ক্যাম্পাসে মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া হলগুলোতেও বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আজ রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশপথে পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে। প্রক্টরিয়াল বডি শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড দেখে ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে। সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের কম উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে এদিন ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের কোনো তৎপরতা দেখা না গেলেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আড্ডা দিতে দেখা যায়। অন্যদিকে প্রধান ফটকে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অবস্থানের পাশাপাশি মোটরসাইকেল শোডাউন চলতে দেখা গেছে। এ সময় তারা জামায়াত-শিবিরবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সার্বিক বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, গতকাল (শনিবার) রাত থেকে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস টহল দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার নিরাপত্তা জোরদার এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইবি থানার ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, অস্ত্রসহ বহিরাগত প্রবেশের বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। আহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের অনুরোধে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘কাজ শুরু করেছি। ঘটনার তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় চিঠি দিয়েছি। আর বহিরাগতদের প্রবেশসহ ঘটনার সার্বিক বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হবে।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন এবং তাদের ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসন সবসময় কঠোর ও সচেতন রয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
- বিষয় :
- ইবি
- ছাত্রদল
- ছাত্রশিবির
- অস্ত্র