ঢাকা রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সালমানের জায়গা নেওয়ার মতো কেউ এখনও আসেনি: আগুন

সালমানের জায়গা নেওয়ার মতো কেউ এখনও আসেনি: আগুন
×

সালমান শাহ ও আগুন

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:২৬ | আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৩১

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি পর্দায় পথচলা শুরু করেন বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ। একই সিনেমায় গান গেয়ে সংগীতজীবন শুরু করেন কণ্ঠশিল্পী আগুন। এরপর দুজনই নিজেদের জায়গায় সাফল্যের শিখরে পৌঁছান। পর্দার বাইরে তাদের মধ্যে ছিল গভীর বন্ধুত্বও।

সালমান শাহর ঠোঁটে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পাওয়া গানগুলোর বেশির ভাগই গেয়েছেন আগুন। কাজের সূত্রে শুরু হওয়া সম্পর্ক একসময় পরিণত হয়েছিল বন্ধুত্বে। তবে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই সেই পথচলায় ছেদ পড়ে সালমান শাহর অকালমৃত্যুতে।

সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বন্ধুকে স্মরণ করে আগুন সমকালকে বলেন, ‘সালমান শাহর সঙ্গে পরিচয়টা হয়েছিল তার প্রথম সিনেমা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ করতে গিয়ে। কাজের সূত্রে শুরু হওয়া সেই পরিচয় অল্প সময়ের মধ্যেই বন্ধুত্বে পরিণত হয়। সিনেমাটি মুক্তির পর সালমানের ব্যস্ততা বেড়ে গেল অনেক। এরপরও এফডিসি কিংবা সিম্ফনি স্টুডিওতে আমাদের দেখা হতো। সেখানে গান রেকর্ড করার সময়ও সে প্রায়ই চলে আসত।’

সালমানের সঙ্গে স্টুডিওতে কাটানো সময়ের স্মৃতিচারণা করে আগুন বলেন, ‘প্লেব্যাকের পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে সালমানের বেশ আগ্রহ ছিল। গান রেকর্ড হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে—এসব জানতে সে স্টুডিওতে বসে থাকত। কাজের পাশাপাশি চলত আড্ডা, গল্প আর নানা রকম হাসি-ঠাট্টা। আমার কণ্ঠ তার ঠোঁটে এমনভাবে মানিয়ে গিয়েছিল যে, শুনলে মনে হতো, আমার গানই হয়ে উঠেছিল তার কণ্ঠ। সালমানও বিষয়টাকে মজারভাবে নিত। আমার গাওয়া গানকে সে নিজের গান বলেই অনুভব করত।’

সালমানের চলে যাওয়ার তিন দশক পরও তার শূন্যতা অনুভব করেন আগুন। তিনি বলেন, ‘এত বছর পরও সালমানের কথা মনে পড়লে মনটা খারাপ হয়ে যায়। সময় তাকে আমাদের কাছ থেকে দূরে নিয়ে গেছে, কিন্তু তার জায়গাটা এখনও খালি। তার মতো একজন শিল্পীর শূন্যতা পূরণ করা সহজ নয়।’

আগুন আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে, সালমানের জায়গা নেওয়ার মতো কেউ এখনও আসেনি—ভবিষ্যতেও আসবে কি না, জানি না।’

১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় সালমান শাহর। একই সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় পা রাখেন মৌসুমী। মুক্তির পর সিনেমাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এরপর একের পর এক সফল সিনেমায় অভিনয় করে অল্প সময়েই দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন সালমান।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘বিক্ষোভ’, ‘দেনমোহর’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘জীবন সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘বুকের ভেতর আগুন’।

মাত্র কয়েক বছরের ক্যারিয়ারেই এসব সিনেমা ও গানের মাধ্যমে দর্শকের মনে যে জায়গা তৈরি করেছিলেন সালমান শাহ, তিন দশক পরও সেই জায়গা অমলিন।

আরও পড়ুন

×