সিএমএসএমই’র সুবিধায় আনার দাবি, প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের খোলা চিঠি
এআই দিয়ে বানানো প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:০১
দেশের প্রায় ৭০ লাখ ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীকে ক্ষুদ্র শিল্প ও সিএমএসএমই খাতের আওতায় এনে সরকারি ঋণ, পুনঅর্থায়ন ও প্রণোদনার সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। সংগঠনটি বলেছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, পরিবহন ব্যয় এবং চাঁদাবাজির চাপে ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীরা সংকটে পড়েছেন। এ অবস্থায় জরুরি সহায়তার পাশাপাশি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।
আজ রোববার প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো এক খোলা চিঠিতে সংগঠনটি বলেছে, রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত লাখ লাখ ছোট দোকান, মার্কেট ও বিপণিবিতানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীরা মানুষকে নিত্যপণ্য ও বিভিন্ন সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন। এসব ব্যাবসার সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা জড়িত। তবে বর্তমানে বিভিন্ন বাজার ও বিপণিবিতানে ক্রেতার উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
সংগঠনটির ভাষ্য, বিক্রি ও আয় কমে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী কর্মচারী ছাঁটাই করছেন। কেউ ব্যাবসার মূলধন ভেঙে দৈনন্দিন খরচ চালাচ্ছেন। কেউ কেউ লোকসান সামলাতে না পেরে ব্যাবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন। অথচ ক্ষুদ্র শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সরকার স্বল্পসুদে ঋণ, পুনঃঅর্থায়ন, প্রণোদনা ও কার্যকরী মূলধনসহ বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা দিলেও ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীরা ওই খাতের আওতায় না থাকায় এসব সুবিধা পাচ্ছেন না।
এ কারণে সব ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীকে সিএমএসএমই খাতের আওতায় আনতে হবে। এর মাধ্যমে দোকান ব্যবসায়ীদের সরকারি নীতিমালায় স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার মতো স্বল্পসুদের ঋণ, পুনঃঅর্থায়ন, প্রণোদনা ও কার্যকরী মূলধনসহ সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সংগঠনটি কয়েকটি দাবি জানিয়েছে। যেমন, সহজ শর্তে স্বল্পসুদের ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ, কার্যকরী মূলধনের ব্যবস্থা এবং সরকারি ঘোষিত সিএমএসএমই ঋণ ও পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দ্রুত ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জামানত, জটিল কাগজপত্র, অপ্রয়োজনীয় শর্ত ও দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করারও দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও বিভিন্ন অবৈধ সার্ভিস চার্জ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরাপদ, স্থিতিশীল ও হয়রানিমুক্ত ব্যাবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবহণসহ ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন ব্যয় কমাতে সরকারি উদ্যোগ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর দাবি করা হয়েছে।
- বিষয় :
- প্রধানমন্ত্রী