ঢাকা রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তিস্তার স্রোতে ধসে গেল ক্রসবাঁধের ৪০ মিটার, ঝুঁকিতে ৬ গ্রাম ও ৫টি বাজার

তিস্তার স্রোতে ধসে গেল ক্রসবাঁধের ৪০ মিটার, ঝুঁকিতে ৬ গ্রাম ও ৫টি বাজার
×

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:১০

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট এলাকায় তিস্তা নদীর তীব্র স্রোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসবাঁধের বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্রোত তীব্র হলে হঠাৎ করেই বাঁধটির প্রায় ৪০ মিটার এলাকা ধসে পড়ে। এতে উপজেলার অন্তত ছয়টি গ্রামের ২০ হাজার মানুষ ও পাঁচটি স্থানীয় বাজার প্লাবিত ও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট নামক স্থানে অবস্থিত ওই ক্রসবাঁধের উত্তর অংশে আচমকা ভাঙন শুরু হয়। চোখের পলকে কয়েক মিনিটের মধ্যে বাঁধের বিশাল অংশ ধসে তিস্তায় বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাঁধটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে বড়দরগা, বুড়িরহাট, রামহরি, চতুরা, কালীরমেলা ও ডাংরারহাট গ্রামের হাজার হাজার বসতভিটা, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এবং পাঁচটি বাজার প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। মূলত নদীর তলদেশে তীব্র স্রোতের কারণে বালু ও মাটি সরে গিয়ে এই ধসের সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে ভাঙন থামায় এবং জরুরি ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলে স্পার বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করায় সাময়িকভাবে বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা কমছে বলে জানিয়েছে পাউবো।

স্থায়ী প্রতিকার দাবি করে স্থানীয় বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘প্রতি দুই-এক বছর পর পরই ভাঙনে এই বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক মেরামত করা হয়। কিন্তু নদীভাঙন রোধে স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণ না করলে আমাদের এই দুর্যোগ চলতেই থাকবে।’

একই কথা বলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমরা জিও ব্যাগের সাময়িক মলমপট্টি চাই না, তিস্তার ভাঙন থেকে বাঁচতে চাই। এ জন্য ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাছান জানান, রাজারহাটের বুড়িরহাট স্পারে হঠাৎ ভাঙন দেখা দেওয়ার পরপরই প্রকৌশলী দল স্থানটি পরিদর্শন করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বালুর বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং সার্বিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন

×