ঢাকা রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্কুল ফিডিংয়ের রুটি-ডিম খেয়ে ১২ শিক্ষার্থী হাসপাতালে, তদন্তে কমিটি

স্কুল ফিডিংয়ের রুটি-ডিম খেয়ে ১২ শিক্ষার্থী হাসপাতালে, তদন্তে কমিটি
×

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:০৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ লাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির রুটি ও ডিম খেয়ে ১২ শিশু শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে সাতজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জেলা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এরআগে নষ্ট ও পচা খাবার সরবরাহের দায়ে এই এনজিওটিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল এবং মামলাও দায়ের করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে আবারও শিশুদের মুখে বিষাক্ত খাবার তুলে দেওয়ার দুঃসাহস দেখাচ্ছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে সিভিল সার্জনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, রোববার দুপুরে ‘গ্রামীণ কর্ম-সহায়ক সংস্থা (গাক)’ নামের সরবরাহকারী এনজিওর দেওয়া স্কুল ফিডিংয়ের রুটি ও সেদ্ধ ডিম খায় শিক্ষার্থীরা। খাওয়ার পরপর একে একে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির সাত থেকে আটজন শিক্ষার্থী পেটে তীব্র ব্যথা ও বমি শুরু করে। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে সাতজনকে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে চারজন ছাত্রী ও তিনজন ছাত্র রয়েছে।

জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে বিষাক্ত খাবার (ফুড পয়জনিং) থেকে এই ঘটনা ঘটেছে। ভর্তি হওয়া শিশুদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে মূল কারণ সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব হবে।’ তিনি আরও জানান, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার তখন সরকারি সফরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি জানার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সিভিল সার্জনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেন।

অভিযোগের বিষয়ে এনজিও সংস্থা গাকের চাঁপাইনবাবগঞ্জের সমন্বয়কারী কবির হোসেন জানান, ঘটনাটি শোনার পর তিনি টাঙ্গাইল থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছে কথা বলবেন। ফোনালাপের এক পর্যায়ে তিনি খবরটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান।

অতীতেও একই প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা খাবার খেয়ে সদর উপজেলায় দুদফায় শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুরে শিশুরা অসুস্থ হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। বারবার কেন এমন পচা ও নষ্ট খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে– সংবাদদাতার এমন প্রশ্নের মুখে এনজিও কর্মকর্তা কবির হোসেন কোনো উত্তর না দিয়ে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

আরও পড়ুন

×