হিজড়া ‘গুরুমা’ মৌসুমী হত্যায় গ্রেপ্তার মোমিন পুলিশকে যে তথ্য দিলেন
মো. মোমিন ওরফে শেখ রনি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:০৬
চট্টগ্রামে হিজড়া সম্প্রদায়ের একাংশের গুরুমা মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়া হত্যার ঘটনায় মো. মোমিন ওরফে শেখ রনি (৩৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি স্থানীয়ভাবে আরেক হিজড়া নেত্রী ফাল্গুনী হিজড়ার কথিত স্বামী হিসেবে পরিচিত।
পুলিশের দাবি, অনলাইন জুয়ায় টাকা হারানোর পর মোমিন অর্থের জন্য মৌসুমীর কাছে যান। সেখানে আর্থিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পায়জামার সুতা দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে মৌসুমীকে হত্যা করেন তিনি।
গ্রেপ্তার মোমিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানার সব্দলপুর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানার পাঠানপাড়া এলাকায় ফাল্গুনী হিজড়ার বাড়িতে বসবাস করতেন। সোমবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম।
ওসি বলেন, মোমিন অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। জুয়া খেলে টাকা হারানোর পর তিনি মৌসুমীর কাছে যেতেন। মৌসুমীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং সেখান থেকে টাকা নিতেন। ঘটনার দিনও জুয়ায় টাকা হারিয়ে রাতে মৌসুমীর বাসায় যান। সেখানে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর টাকা চান। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পায়জামার সুতা দিয়ে মৌসুমীর গলায় ফাঁস দিয়ে তাঁকে হত্যা করেন মোমিন।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার সকালে মৌসুমীর লাশ উদ্ধারের পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোমিনকে শনাক্ত করা হয়। ফুটেজে এক যুবককে রাতে মৌসুমীর বাসায় ঢুকতে এবং ভোরে বের হতে দেখা যায়।
ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম বলেন, প্রাথমিকভাবে আর্থিক দ্বন্দ্বের কারণেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে মোমিন হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।
এর আগে গত শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরের আমবাগান রেলওয়ে কলোনি-সংলগ্ন হিজড়া কলোনির নিজ বাসা থেকে মৌসুমী হিজড়ার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। মৌসুমী বাসায় একাই থাকতেন।
ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর লাশ রেলওয়ে কলোনি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম
- হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন
- গ্রেপ্তার