নানার বাড়িতে বেড়াতে এস পানিতে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) ও নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:২৬
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নদীতে খেলতে ও মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
সাতকানিয়ায় নানার বাড়িতে বেড়ানোর সময় সাঙ্গু নদীর তীরে খেলার সময় পানিতে ডুবে দুই-ভাই বোনের মৃত্যু হয়। উপজেলার আমিলাইষ ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম আমিলাইষ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃতরা হলো–আমিলাইষ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বডলু মাহবুব মেম্বার বাড়ি তক্তার মসজিদ এলাকার বেলাল উদ্দিনের সন্তান মোহাম্মদ সায়েম (৩) ও মোছাম্মৎ আফিফা (৬)।
সায়েম ও আফিফার মামা দিদারুল আলম জানান, কয়েকদিন আগে তাঁর বোন দুই সন্তান নিয়ে তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তাঁদের বাড়িটি সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী। সোমবার সকালে পাড়ার অন্য শিশুদের সঙ্গে তাঁর ভাগ্নে ও ভাগ্নি নদীর তীরে খেলতে যায়। খেলার এক পর্যায়ে তারা নদীর পানিতে পড়ে ডুবে যায়। পরে ওই শিশুরা ঘরে এসে খবর দিলে পরিবারের লোকজন পানিতে ভাসমান অবস্থায় তাদের মৃত উদ্ধার করে।
আমিলাইষ ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সোমবার আসরের নামাজের পর মৃত দুই শিশুর নিজ বাড়ি আমিলাইষ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তক্তার মসজিদ এলাকায় তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
মাছ ধরতে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু
নাগেশ্বরীতে নানা বাড়িতে বেড়ানোর সময় পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছে দুই শিশু। তারা খালাতো ভাইবোন। সোমবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কচাকাটা থানার কেদার ইউনিয়নের ঢলুয়াবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত শিশুরা হলো–সিয়াম (৮) ও মোফাসসিসা (৭)। সিয়াম উপজেলার চরবিষ্ণুপুর গ্রামের মমিনুর ইসলামের ছেলে। অপর মৃত মোফাসসিরা খামার গ্রামের দুলাল হোসেনের মেয়ে।
স্বজনেরা জানান, সিয়াম ও মোফাসসিরা তাদের পরিবারের সঙ্গে ঢলুয়াবাড়ী গ্রামে নানা বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। সোমবার সকালে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে তারা ছেড়া মশারি দিয়ে জাল বানিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে মাছ ধরতে নামে। এ সময় তারা পানিতে ডুবে যায়। দুপুর ১টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন সিয়ামের মরদেহ পুকুরে ভাসতে দেখে পরিবারে খবর দেয়। পরে পরিবারের লোকজনসহ স্থানীয়রা প্রথমে সিয়াম ও পরে পানির নিচ থেকে মোফাসসিরার মরদেহ উদ্ধার করে।
কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অর্পণ কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি জেনে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।