ঢাকা বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দখল দূষণে গতি হারিয়েছে পীরতলা খাল

দখল দূষণে গতি হারিয়েছে পীরতলা খাল
×

এভাবে বহুতল ভবন ও পাকা স্থাপনা উঠিয়ে দখল করা হয়েছে পটুয়াখালীর পীরতলা খালটি। গত রোববার তোলা ছবি সমকাল

মুফতী সালাহউদ্দিন, পটুয়াখালী ও এবাদুর রহমান, দুমকী

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

দখল-দূষণে ধুঁকছে পটুয়াখালীর দুমকীর পীরতলা খাল। উপজেলা সদরের পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ এ খাল বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দুই পাশ দখল করে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবনসহ নানা স্থাপনা। 

উপজেলা সদরের বুক চিরে বয়ে গেছে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ পীরতলা খাল। এর উত্তরে আঙ্গারিয়াসহ পায়রা নদী এবং দক্ষিণে শ্রীরামপুর ইউনিয়নসহ লোহালিয়া নদীর মোহনা। এক সময় এ খালে বড় বড় নৌকা, ছোট ছোট লঞ্চ চলত। দুই পাশ ঘিরে আবাসিক ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় এবং বর্জ্য ফেলায় খাল দিয়ে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের বসবাসকারীরা পড়েছেন অস্বস্তিতে। স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলা প্রশাসন দখল-দূষণের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় খালটি বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। 

নদীর সঙ্গে পানিপ্রবাহ বজায় রাখতে আশির দশকের দিকে খালটি খনন করা হয়েছিল। ১৯৮১ সালের ২৭ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে খালটি খনন করেছিলেন। তাঁর সেই উদ্বোধনী ফলকটি খালের পাশে স্মৃতি হয়ে আজও দাঁড়িয়ে থাকলেও খালে নেই পানির প্রবাহ। 
স্থানীয়রা জানান, ওয়ান-ইলেভেনের সময় ২০০৭-০৮ অর্থবছরে খালটি দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয় যৌথ বাহিনী। পরে পাকা-আধাপাকা ঘরবাড়িসহ বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়। নির্বিচারে বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা ফেলতে থাকেন স্থানীয়রা। 

সরেজমিনে দেখা যায়, খালের থানা ব্রিজের উত্তরের সৃজনী বিদ্যানিকেতন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়ে পায়রা নদীর মোহনা পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটারে সবচেয়ে বেশি দখল হয়েছে। এ পাশে শুধু পীরতলা বাজারে খালের জমিতে অবৈধ দোকানপাট গড়ে উঠেছে ২০টির বেশি। চারতলা ভবন রয়েছে একটি। এছাড়া থানা ব্রিজের দক্ষিণে লুথার‌্যান হেলথ কেয়ার হাসপাতাল পর্যন্ত ২০০ মিটার এলাকায় ৫ থেকে ৭টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। বেশির ভাগ আধাপাকা টিনশেড ভবন। অনেক স্থানে মাটি ফেলে খাল ভরাট করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী জহির ইলেকট্রনিক ও সার্ভিসিং সেন্টারের স্বত্বাধিকারী শামিম আজাদ বলেন, ‘ক্রয়সূত্রে আমি এ জমির মালিক এবং জমি ক্রয়ের পর নকশা অনুযায়ী মেপে দেওয়া হয়। তারপর আমি ঘর তুলে দীর্ঘ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করে আসছি। আমি খালের কোনো জমি দখল করিনি।’ 

আরেক ব্যবসায়ী জোনাকি বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী মো. ফোরকান মৃধা বলেন, ‘একবার জরিপ হয়েছিল এবং খালের নকশা অনুযায়ী মাপের পর আমরা যার যার জায়গা বুঝে নিই। আমি খালের কোনো জায়গা দখল করিনি। তারপরও খালের মধ্যে ঢুকে থাকলে আমি তা ছেড়ে দেব। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’
পীরতলা খালতীরের চারতলা ভবনের মালিক ও দুমকী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। 
দুমকী পীরতলা বাজার কমিটি সভাপতি মোহাম্মদ বশির উদ্দিন বলেন, খালের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা উঠে খালটিতে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে ফেলেছে। খালটি উদ্ধারের জন্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় মিটিং করা হয়েছে। বারবারই প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে খালটি খনন হবে এবং অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হবে। 
দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী জানান, পীরতলা খালটির অবৈধ দখলদারদের তালিকা করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পাঠানো হবে। তালিকাটি অনুমোদন পেলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করা হবে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সম্পন্ন হলে খালটি পুনর্খনন করা হবে। ইতোমধ্যে এ জন্য বরাদ্দও এসেছে। 

আরও পড়ুন

×