বান্দরবানে আওয়ামী লীগ নেতা লক্ষ্মীপদর সম্পদের অনুসন্ধান শুরু
লক্ষ্মীপদ দাস
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:১৯
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বান্দরবান জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য লক্ষ্মীপদ দাস এবং তার স্ত্রী সীমা দাসের সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এজন্য দুদকের পক্ষ থেকে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর এবং ব্যাংকে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ ২ সেপ্টেম্বর বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে দুদক। সীমা দাস বান্দরবানের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
অনুসন্ধানের বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হুমায়ুন বিন আহমদ সমকালকে বলেন, ‘অনুসন্ধান চলমান, তাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু বলার সুযোগ নেই।’
তবে দুদক সূত্রে জানা যায়, প্রভাব খাটিয়ে লক্ষ্মীপদ দাস বান্দরবান জেলার এলজিইডি, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, জেলা পরিষদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, বিএডিসি বিভাগে টেন্ডারবাজি করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কথা বলে বান্দরবানের অবৈধ ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে খুব অল্প সময়ে লক্ষ্মীপদ দাস গড়ে তুলেছেন কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ।
বান্দরবান সদরে রাজারমাঠের পাশে রয়েছে তার বিলাসবহুল বাড়ি। বালাঘটা পাসপোর্ট অফিসের পাশে রয়েছে কোটি টাকা মূল্যের ১৬ শতক জমি। লেমুঝিরি এলাকায় রয়েছে নামে-বেনামে অর্ধকোটি টাকার জমি। রেইচা চিনিপাড়ায় কোটি টাকা মূল্যের জমি। কালাঘাটা এলাকায় রয়েছে দেড় কোটি টাকা দামের এক একর জমি। ঢাকা ও ভারতের কলকাতায় রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট। বান্দরবান সুয়ালকে রয়েছে তার ব্যক্তিগত অবৈধ ইটভাটা। বান্দরবান শহরে সীমা দাসের নামে কোটি টাকা মূল্যের দুটি প্লট রয়েছে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপদ দাস দম্পতি নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ। লক্ষ্মীপদ দাস ১৩ বার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। সীমা দাস বিদেশ গিয়েছেন সাতবার। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশ ভ্রমণের নামে তারা দেশের বাইরে টাকা পাচার করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, লক্ষ্মীপদ দাস টানা দুবার বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সুবাদে পুরো জেলার সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব খাটিয়ে বাড়াতে থাকেন সম্পদের পরিমাণ।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও লক্ষ্মীপদ দাসের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী সীমা দাসকেও মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি।
- বিষয় :
- বান্দরবান
- আওয়ামী লীগ
- দুদক