ঢাকা বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদ্রাসায় না ফেরায় ছাত্রকে ধরে এনে পিটুনি

মাদ্রাসায় না ফেরায় ছাত্রকে ধরে এনে পিটুনি
×

অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:০২ | আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:২৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ১১ বছরের এক ছাত্রকে বাড়ি থেকে ধরে এনে অমানবিকভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষককে বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার ছাত্রের চিৎকারে এলাকাবাসী ওই শিক্ষককে পুলিশে দিয়েছেন। অচেতন অবস্থায় আব্দুল্লাহ (১১) নামে শিশুটিকে উদ্ধার করে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বেতের পিটুনিতে তার শরীরজুড়ে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে। 

আজ বুধবার সকালে কৃষ্ণনগর আশরাফুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের রমজান আলীর (রুমান মিয়ার) ছেলে আব্দুল্লাহ কৃষ্ণনগর আশরাফুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার ‘হাফেজ সেকশনের’ পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। ওই মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিম সম্পর্কে আবদুল্লাহর খালু। সেই সুবাদে তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মাদ্রাসায় ক্লাস শেষে বাড়ি চলে যায় আব্দুল্লাহ। মঙ্গলবার পর্যন্ত সে মাদ্রাসায় ফেরেনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব গতকাল বুধবার সকালে বাড়ি থেকে তাকে ধরে মাদ্রাসায় নিয়ে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, আব্দুল্লাহকে মাদ্রাসায় এনেই বেত দিয়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকেন মুফতি ইব্রাহিম। তাঁর চিৎকারে এলাকাবাসী মাদ্রাসার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা ভেতর থেকে অচেতন অবস্থায় রক্তাক্ত আবদুল্লাহকে কৃষ্ণনগর বাজারে অবস্থিত বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে পুলিশ এলে তারা শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিমকে তাদের হাতে তুলে দেন। 

মুফতি ইব্রাহিম মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আব্দুল্লাহকে বাড়ি থেকে ধরে আনার কারণে রাগান্বিত হয়ে তাকে নির্যাতন করেছি। শাসনটা অতিরিক্ত হয়ে গেছে, আমি ভুল স্বীকার করছি।’

শিশুটির মা বলেন, এই ঘটনার জন্য মামলা করতে যাবেন না। তিনি এলাকাবাসীর কাছে সমাধান চান। এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। 

তবে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, তিনি জেলা শহরে কাজে এসেছেন। এমন ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি কমিটিকে দ্রুত বসতে বলেছেন। শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। 

মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মহিউদ্দিন আশরাফী বলেন, ‘আমি খবর পেয়ে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ঘটনাস্থলে এসে আহত ছাত্রকে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাই। আব্দুল্লাহ খুব ভালো ছেলে।’ তাঁর ওপর চালানো নির্যাতনকে জঘন্য ও পৈশাচিক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এমন  নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই শিক্ষক যেভাবে নির্যাতন করেছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সভা করে সঠিক বিচারের আশ্বাস দেন তিনি। 

নবীনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথ বলেন, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। জনতা শিক্ষক ইব্রাহিমকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে তাঁকে থানায় আনা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাননি, পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×