ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে জকসুর মানববন্ধন
ছবি: সমকাল
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৪৬
সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।
বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। জকসুর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে ভাইভায় নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মেধার মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের দাবি, লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাইয়ের সুযোগ বাড়াতে হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও দলীয়করণের সুযোগ বন্ধ করতে হবে।
জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার দেশের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান না করে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দিকে কোনো প্রকার ভ্রূক্ষেপ না করে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন খাতে দলীয়করণের ঘৃণ্য পাঁয়তারা শুরু করেছে। সরকারি চাকরিতে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বৃদ্ধি করা মূলত দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন খাতকে দলীয়করণ করার একটি কৌশল। অবিলম্বে এমন অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন, সরকারি চাকরিতে লিখিত পদ্ধতির নম্বর কমিয়ে ভাইভায় নম্বর বৃদ্ধি মূলত কোটা পদ্ধতির নব্যরূপ। এরকম প্রতারণামূলক পদ্ধতির আবির্ভাব ঘটিয়ে পূর্বের সরকারকে তীব্র জনরোষের মুখে দেশ ছাড়তে হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই পদ্ধতি বাতিল না করলে বর্তমান সরকারকেও শিক্ষার্থীরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।
জাতীয় ছাত্রশক্তি, জবি শাখার সভাপতি মো. শাহীন মিয়া বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আমরা সরকারকে সতর্ক করে দিতে চাই, একের পর এক এমন শিক্ষার্থী ও গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রণয়ন বন্ধ না করলে পূর্বের ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো এই সরকারকেও কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।
এ সময় নেতৃবৃন্দ ‘বেশি মার্ক ভাইভায়, চাকরি হবে পয়সায়’, ‘ভাইভা না মেধা—মেধা, মেধা’, ‘কোটা গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সে পথে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরির ১১–২০ গ্রেডের পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য নতুন পরীক্ষার মানবণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, ১১–১২ গ্রেডে ১০০ নম্বরের লিখিত ও ৫০ নম্বরের মৌখিক, ১৩–১৬ গ্রেডে ৬০ নম্বরের লিখিত ও ৪০ নম্বরের মৌখিক এবং ১৭–২০ গ্রেডে লিখিত ও মৌখিক—উভয় পরীক্ষায় ২৫ নম্বর করে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
- বিষয় :
- নিয়োগ পরীক্ষা
- সরকারি চাকরি
- মানববন্ধন
- জকসু