চা বাগানে পৃথক মজুরিব্যবস্থা, ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের প্রতিবাদ
ছবি- সংগৃহীত
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪০ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:০২
| প্রিন্ট সংস্করণ
চা শ্রমিক নেত্রী গীতা রানী কানু গ্রেপ্তারের পর থেকে মৌলভীবাজারে চা শ্রমিকের মজুরি বাড়ানোর আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি ইনক্রিমেন্টের টাকা গ্রহণ ও বর্জন নিয়ে বিভিন্ন বাগানে ভিন্ন ভিন্ন মজুরি চালু হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বৈষম্য। বাড়ছে ক্ষোভ।
দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি বৃদ্ধিসহ চার দফা দাবিতে গত প্রায় দুই মাস আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন সাধারণ চা শ্রমিকরা। এর ধারাবাহিকতায় গত ৩১ আগস্ট চা শ্রমিক সংস্কার কমিটি ও চা শ্রমিক নারী ফোরামের ব্যানারে শ্রীমঙ্গলে মানববন্ধন ও কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচি শেষে শ্রমিকদের একটি অংশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের লেবার হাউসের সামনে গেলে প্রতিপক্ষ পক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পালের করা মামলায় গত ২ সেপ্টেম্বর আদালত চত্বর থেকে গ্রেপ্তার হন চা শ্রমিক নারী ফোরামের আহ্বায়ক গীতা রানী কানু। অন্যান্য আসামিরা জামিনে মুক্ত থাকলেও তিনি এখনও কারাবন্দি রয়েছেন। নেত্রীর কারাবাসের কারণে আন্দোলন কিছুটা ঝিমিয়ে পড়লেও তাঁর মুক্তির দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে সোচ্চার রয়েছেন অনুসারী ও সাধারণ শ্রমিকরা। এ ছাড়া তাঁর মুক্তির দাবিতে নাগরিক সমাজেও সংহতি জানিয়ে সমাবেশ করার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে মজুরি কাঠামো নিয়ে চা বাগানগুলোতে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। ফিনলে কোম্পানির বাগানসহ বেশ কিছু বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির নেতারা শ্রমিকদের সম্প্রতি দেওয়া ইনক্রিমেন্টের টাকা নিতে বাধা দিচ্ছেন। ফলে এসব বাগানের শ্রমিকরা আগের ন্যায় দৈনিক ১৮৭ দশমিক ৪৩ টাকা মজুরি পাচ্ছেন। অন্যদিকে ডানকান ব্রাদার্সসহ যে সব বাগানের শ্রমিকরা ইনক্রিমেন্ট গ্রহণ করছেন, তারা দৈনিক ১৯৬ দশমিক ৮০ টাকা মজুরি পাচ্ছেন। এর ফলে বর্তমানে চা বাগানগুলোতে দুই ধরনের দৈনিক মজুরি ব্যবস্থা চালু থাকায় অস্থায়ী ও সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
শ্রমিক নেতারা জানান, তিন বছর পর পর মজুরি বৃদ্ধির মালিক-শ্রমিক চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও চার বছর পেরিয়ে গেলেও তা হয়নি। নতুন চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইনক্রিমেন্টের টাকা না নিয়ে এককালীন সমন্বিত মজুরি গ্রহণের পক্ষে অনড় রয়েছে একটি পক্ষ।
চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রামভজন কৈরী বলেন, গ্রুপিং, মামলা ও হামলার কারণে শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।
চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল জানান, সব ধরনের গ্রুপিংয়ের অবসান ঘটিয়ে দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে পুনরায় বেগবান করা হবে এবং খুব দ্রুত শ্রমিকদের সংঘবদ্ধ করে নির্বাচনের প্রক্রিয়াও শুরু করা হবে।
- বিষয় :
- বাগান