চট্টগ্রাম
সেই ৬৩ বিদেশির সাত দিন করে রিমান্ড চায় পুলিশ
ছবি: ফাইল
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৫০ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৫২
চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রে জড়িত ৬৩ বিদেশি নাগরিককে সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিসি)। এর সঙ্গে কানেকশন থাকা ১১৮ গ্রাম কোকেন মামলার আসামি এস এম মহসিন ও রিয়াদুল আহম্মদের পাঁচ দিন করে পৃথকভাবে রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ। আগামী মঙ্গলবার উভয় মামলার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ রোববার চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ড আবেদন করেন দুই মামলার দুই বাদী।
কোকেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ তানভীর ভূইয়া বলেন, কোকেন মামলার দুই আসামি এস এম মসহিন ও রিয়াদুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছি।
পুলিশের এসআই রাজীব কান্তি দে বলেন, ৬৩ বিদেশি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সাইবার আইনের মামলায় সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। কোকেন মামলার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। উভয় রিমান্ড শুনানি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন আদালত।
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে নগরের দক্ষিণ খুলশী ২ নম্বর রোডের বিশ্রাম ভবনের নিচ তলায় অবস্থিত ‘স্টেড ফাস্ট কুরিয়ার লিমিটেডের’ মাধ্যমে মাদক কোকেনের একটি চালান ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। গোপন তথ্য পেয়ে পুলিশ, কাউন্টার টেরোরিজম, এলআইসি শাখা ও জেলা পুলিশ যৌথভাবে কুরিয়ার সার্ভিস অফিসে গিয়ে অভিযান চালায়। ৫ সেপ্টেম্বর বুকিংয়ে থাকা সব মালামাল তল্লাশি করে দুইটি পলিব্যাগ থেকে ৬০ গ্রাম ও ৫৮ গ্রাম সর্বমোট ১১৮ গ্রাম ওজনের কোকেন জব্দ করে পুলিশ। উদ্ধার কোকেনের মূল্য ২৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের আব্দুর ওউফের ছেলে রিয়াদুল আহম্মেদ ও ঢাকার উত্তরা দক্ষিণ খানের কলিল বক্স রোডের মো. আলমগীরকে আসামি করে খুলশী থানায় একটি মামলা হয়। এ ঘটনায় গত শনিবার চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ এলাকার বাসিন্দা এস এম মহসিন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৫ সেপ্টেম্বর কোকেন চালান ধরার পর পুলিশের গোয়েন্দারা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করেন। তদন্ত কিছু দূর এগুতে এলআইসি শাখার গোয়েন্দারা খুলশীর থানাধীন কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি আটতলা ভবনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পান। পাঁচ দিন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে পরে থানা পুলিশ, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, এলআইসি শাখা, র্যাবসহ বিভিন্ন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা মিলে ওই ভবনে অভিযানে যান। তারা ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে সার্ভার স্টেশন তৈরি করে অনলাইনে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থানার ডিভাইস জব্দ করেন। ৬৩ জন বিদেশি নাগরিকের কারো কাছেই পাসপোর্ট পাননি। তাদের গ্রেপ্তার করে সাইবার সুরক্ষা আইনে আদালতে পাঠালে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম