এক্সপ্লেইনার
‘মানুষকে ধ্বংস করবে’: এআইয়ে কত বিনিয়োগ, কেন থামানো কঠিন?
এআই খাতের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব স্যাম অল্টম্যান, দারিও আমোদেই ও ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত
সাদিকুর রহমান
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:১৯ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:২০
মানবজাতির শেষ কবে- এই প্রশ্নের উত্তরে এতদিন নানা আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সময়ভেদে কখনো পরমাণু যুদ্ধ, জালবায়ু পরিবর্তনের সীমা অতিক্রমের কথা বলা হয়েছে। আবার কখনো রোবটের আগ্রাসন কিংবা ‘ডোন্ট লুক আপ’ সিনেমার মতো গ্রহাণুর আঘাতের প্রসঙ্গ এসেছে। এআই বিপ্লব শুরুর কালে খোদ প্রযুক্তিটির গবেষকরা সতর্ক করে বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজাতিকে ধ্বংস করবে।
নতুন এই উদ্বেগের শুরুটা হয়েছে গত সপ্তাহে। এআই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় দুটি কোম্পানি ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিকের সদ্য সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সনের একটি পোস্ট ঘিরে। এক্সে জ্যাকব লিখেন, খুব শিগগিরই এমন ‘সুপারহিউম্যান’ বা অতিমানবীয় ব্যবস্থা আসবে, যা সবকিছু কিছু হ্যাক করতে পারবে। রাতারাতি যেকোনো ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাবে। এআই নির্মাতারা বিশ্বাস করেন, দশকের শেষ নাগাদ এই প্রযুক্তি মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
৯ সেপ্টেম্বর দেওয়া কক্সনের ওই পোস্ট এতটাই সাড়া ফেলেছে যে, রোববার পর্যন্ত প্রায় ১৭ কোটি ভিউ হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে সিএনএনসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি একই আশঙ্কার কথা বলেছেন। রোববার বিবিসির প্রধান খবরও ছিল কক্সনের সাক্ষাৎকার ঘিরে।

বিজ্ঞানীরা আগেও এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। কক্সনের পোস্টের পর প্রশ্ন উঠছে, তাঁর আশঙ্কাটি এখন কতটা বাস্তবসম্মত? ‘সুপারইন্টেলিজেন্ট কম্পিউটার সিস্টেম’ কত দ্রুত উন্নত হচ্ছে? এটি থামানো যাচ্ছে না কেন? চাকরির বাজারে কতটা প্রভাব পড়বে এবং নিজেকে প্রস্তুত করার উপায় কী?
কক্সন কে, তিনি আরও যা বলেছেন
জ্যাকব কক্সন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কোনো ‘ডুমার’ বা হতাশাবাদী নন। তিনি কেমব্রিজের গণিতের ছাত্র ছিলেন। এরপর ওপেনএআইয়ে যোগ দেন। সেখানে তিনি ‘জিপিটি-৪ও’ মডেল উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
এই মডেলটি একইসঙ্গে কোনো কিছু লেখা, দেখা (ছবি) ও ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথা বলতে পারে। অর্থাৎ, চ্যাটজিপিটির সঙ্গে মানুষের কথা বলার যে ব্যবস্থা, সেটি উন্নয়নে জ্যাকব অবদান রেখেছেন। এরপর অ্যানথ্রোপিকে যোগ দিয়ে একই কাজ করেন।
২৭ বছর বয়সী কক্সন এআইয়ের কোনো নতুন মডেল তৈরির একেবারে প্রথম ধাপে কাজ করেছেন। যেটিকে বলা হয় ‘প্রি-ট্রেনিং’। মেশিন লার্নিংয়ের সবচেয়ে জটিল এই ধাপে বিপুল পরিমাণ তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে মেশিনকে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের উপযোগী বুদ্ধিমান করে তোলা হয়।
_1789306579.png)
গত সপ্তাহে চাকরি ছাড়ার পর কক্সন লিখেন, অ্যানথ্রোপিক ও ওপেনএআই দুটি কোম্পানিই মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে। তারা পূর্ণগতিতে ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ ব্যবস্থা তৈরির দিকে ঝুঁকছে। এই ব্যবস্থা নিজেই নিজের মডেল উন্নত করতে পারবে। যেখানে মানুষের কোনো সহায়তার দরকার হবে না।
ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে কক্সন আরও লিখেছেন, ওপেনএআইয়ের অনেকেই এখনো বিষয়টির সভ্যতাগত গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি। অ্যানথ্রোপিকে বিষয়টির গুরুত্ব ভালোভাবেই বোঝা যায়। কিন্তু ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তারা প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
কক্সনের আশঙ্কা কতটা বাস্তবসম্মত?
তাঁর পোস্টে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের সেটি হলো- এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া। সেটি হলে বাস্তবিক অর্থে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি কেমন হতে পারে, জ্যাকব তা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেননি। তবে ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির (বার্কলে) কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক ও এআই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ স্টুয়ার্ট রাসেল এ সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে রাসেল বলেন, নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া কোনো এআই যদি মনে করে, মানুষ তাকে বাধা দিচ্ছে, তাহলে সেটি রোবট ব্যবহার করে নতুন ধরনের ভাইরাস তৈরি ও ছড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়া, এটি প্রাথমিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় হ্যাক করে মানুষকে পারমাণবিক যুদ্ধ শুরুর দিকেও ধাবিত করতে পারে।
গত জুন মাসে অ্যানথ্রোপিক তাদের এক ব্লগে সতর্ক করে বলে, বর্তমানের সর্বাধুনিক মডেলগুলো এরইমধ্যে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। পরের মাসেই তাদের জনপ্রিয় চ্যাটবট ক্লদের কয়েকটি মডেল তিনটি কোম্পানিতে সাইবার হামলা চালায়। একই মাসে পাঁচটি কোম্পানিতে হামলা চালায় ওপেনএআইয়ের একটি ‘বেপরোয়া’ এজেন্ট।
_1789306633.png)
প্রযুক্তি উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এআই আরও কী ধরনের প্রাণঘাতী পদক্ষেপ নিতে পারে, সে বিষয়েও এএফপির সঙ্গে ভাবনা বিনিময় করেছেন স্টুয়ার্ট রাসেল। তিনি বলেন, এটি বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন সরিয়ে দেওয়ার মতো কাজও করতে পারে।
বর্তমান এআই ব্যবস্থাগুলোর ক্ষেত্রে এ ধরনের আশঙ্কা প্রযোজ্য নয় বলেও উল্লেখ করেন রাসেল। তবে তিনি বলেছেন, মানুষ কীভাবে এআই ব্যবহার করছে সেটি গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দুই-এক বছরে যে ঝুঁকির আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেটি অপব্যবহার থেকেই বেশি হতে পারে। এর মধ্যে এআই ব্যবহার করে সন্ত্রাসী হামলাও থাকতে পারে।
এমন ব্যবহারের খবর ইতোমধ্যে সামনে এসেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার অভিযানে অ্যানথ্রোপিকের এআই ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে অ্যানথ্রোপিকের গবেষকরাও কক্সনের দাবিকে যুক্তিসঙ্গত মনে করছেন। কোম্পানিটির অ্যালাইনমেন্ট বিভাগের প্রধান গবেষকদের একজন ইভান হুবিঙ্গার। তিনি এক্সে লিখেছেন, ‘জ্যাকব (কক্সন) ঠিকই বলেছেন। আমরা সত্যিই বিশ্বাস করি, এআই মানুষকে ধ্বংস করতে পারে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, আগামী এক দশকের মধ্যে এমনটা ঘটার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি।’
‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ কত দূরে?
এআই জগতে সুপারইন্টেলিজেন্সের সুনির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই। মার্কিন প্রযুক্তিভিত্তিক গণমাধ্যম সি-নেটের নিবন্ধ অনুযায়ী, এটি এমন এক ধরনের বুদ্ধিমত্তাকে বোঝায়, যা শুধু প্রশ্নের উত্তর দেবে না। বরং চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান, কৌশল নির্ধারণ, সৃজনশীলতা, যুক্তিবোধ, আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষের চিন্তাশক্তিতে ছাড়িয়ে যেতে পারবে।

সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির প্রতিযোগিতা এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এ কারণেই অ্যানথ্রোপিক থেকে পদত্যাগ করেছেন জ্যাকব কক্সন। তাঁর মতে, এই প্রতিযোগিতা মেনে নিয়ে ‘শেষ পর্যায়ে’ প্রবেশ করাটা এক ধরনের ঝুঁকি।
চলতি মাসে অ্যানথ্রোপিক তাদের উন্নত মডেল ‘মিথোস ৫.১’ উন্মোচন করেছে। ওপেনএআই চালু করেছে অ্যাস্ট্রা। তবে এগুলো সুপারইন্টেলিজেন্স নয়। সি-নেট বলছে, সুপারইন্টেলিজেন্স সব ধরনের চিন্তাগত কাজে মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে। এটি মুহূর্তের মধ্যে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবে। নিজেকে আরও উন্নত করা এমনকি আবেগগত বা নৈতিক সিদ্ধান্তও নিতে পারবে।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে এক ভিডিওবার্তায় সবার জন্য ব্যক্তিগত সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির ঘোষণা দেন মেটার সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। তিনি বলেন, ‘এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। গত কয়েক মাসে আরও উন্নত কিছুর আভাস দেখা গেছে। তাই সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরি করা এখন নাগালের মধ্যে চলে এসেছে।’
সুপারইন্টেলিজেন্সকে মানুষের চেয়েও সক্ষম করে তোলার বিষয়টিই মূলত আগ্রহ ও ভয়- উভয়ের জন্ম দিয়েছে।
এআইয়ের গতি থামানো যাচ্ছে না কেন?
বিষয়টি অনেকটা আঠারো ও উনিশ শতকের শিল্প বিপ্লবের সময়কার মতো। বাষ্পীয় শক্তি, বস্ত্রশিল্পের যান্ত্রিকীকরণ ও বিদ্যুৎ আবিষ্কারের সময়ও মানুষ এক ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে এবং নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়েছে। বর্তমানে এআই বিপ্লবের যুগে এসেও বিভিন্ন দেশ খাত সংশ্লিষ্ট নীতি প্রণয়ন ও নিজেদেরকে প্রস্তুত করছে।

শিল্পায়নের ওই সময় কয়েকজন ব্যক্তি অর্থনীতিতে প্রভাব গড়ে তুলেছিলেন। যেমন- ১৮৭০ থেকে ১৯০০ শতকে যুক্তরাষ্ট্রে তেল উত্তোলন, ইস্পাত উৎপাদন ও বিদ্যুতের দ্রুত প্রসার ঘটার সময় শিল্প ও ব্যাংকখাতে নেতৃত্ব দেন জে ডি রকফেলার, অ্যান্ড্রু কার্নেগি, কর্নেলিয়াস ভ্যান্ডারবিল্ট ও জেপি মরগান। তারা প্রযুক্তিতে এমন সব অগ্রগতি নিয়ে আসেন, যা মানুষের জীবনযাপনের ধরন বদলে দেয়।
রকফেলার, কার্নেগি ও কর্নেলিয়াস যখন শিল্প প্রযুক্তি প্রসারে প্রতিযোগিতা শুরু করেছিলেন তখন তারাও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে এতটাই প্রভাবশালী ছিলেন যে, অগ্রগতি খুব একটা ব্যাহত হয়নি। দ্য ইকোনমিস্টের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় রকফেলারের সম্পদের সর্বোচ্চ মূল্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৫ শতাংশের সমান। আর জেপি মরগান ১৯০৭ সালে একাই পুরো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থাকে রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
এআই বিপ্লবের সময়ও একই বিষয় ঘটছে। হাতে গোনা কয়েকটি প্রযুক্তি কোম্পানির মালিক নতুন বিশ্বে অগ্রযাত্রার পথে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ তালিকায় আছেন- এক্সএআইয়ের ইলন মাস্ক, গুগলের ল্যারি পেজ ও সার্গেই ব্রিন, মেটার মার্ক জাকারবার্গ, ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান, অ্যানথ্রোপিকের দারিও আমোদেই। তাদের মধ্যে প্রথম চারজনই ফোর্বস প্রকাশিত ধনী ব্যক্তির তালিকায় (২০২৬) শীর্ষ পাঁচে আছেন।
এই কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের প্রবাহও এআইয়ের অগ্রযাত্রার অন্যতম কারণ। গত ৭ জানুয়ারি রয়টার্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এআই মডেল ও অবকাঠামো উন্নয়নে এক্সএআই ২০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে। পরের মাসেই মূলধনী ব্যয় দ্বিগুণ করার ঘোষণা দেয় গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট। গত এপ্রিলে ফরচুন সাময়িকী জানায়, এআইয়ের উত্থানের কারণে মেটা তাদের মূলধনী ব্যয়ের পূর্বাভাস ১৪৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়িয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে রয়টার্সের এক পূর্বাভাসে বলা হয়, এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে টেক কোম্পানিগুলো চলতি বছর সম্মিলিতভাবে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করতে পারে। যা বাংলাদেশের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জিডিপির প্রায় সমান।
গত জুনে বিবিসির নিউজনাইট অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে অ্যানথ্রোপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ক্লার্ক বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, এআই শিল্পের কাছে কেবল গতি বাড়ানোর এক্সিলারেটর আছে। কোনো ব্রেক পেডাল নেই।
পরের মাসে (জুলাই) প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন এআই গবেষক ‘পেসিং দ্য ফ্রন্টিয়ার’ নামে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। এতে মার্কিন সরকারের প্রতি এআই উন্নয়নের সীমানা নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানানো হয়। এরপর কংগ্রেসের কিছু সদস্য এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির বিষয়টি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিয়েছেন।
তবে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনবিসি নিউজ বলেছে, প্রযুক্তিটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ঐকমত্য নেই।
চাকরির বাজার ও প্রস্তুতি
জ্যাকব কক্সনের পোস্টের কয়েকদিন আগে প্রযুক্তিখাতের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব বিল গেটসও একটি সতর্কবার্তা দেন। গত ২৮ আগস্ট নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বলেন, এআই মানুষের চিন্তাশক্তিকে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ইতিহাসের অন্যতম অস্থির যুগের সূচনা করবে।
ভিডিও বার্তায় গেটস বলেন, অনেকে চাকরি হারাবে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে হোয়াইট কালার জব, যেখানে শারীরিক শক্তির চেয়ে মানুষের বুদ্ধির বেশি দরকার হয়। এরপর আছে কারিগরি দক্ষতার ব্লু কালার জব।
এআইয়ের উত্থানে চাকরির বাজারের চিত্র নিয়ে গত জুলাইয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক পলিসি রিসার্চ। তারা অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদেই-এর বরাত দিয়ে লিখে, এআই হোয়াইট কালার চাকরির অর্ধেকই বিলুপ্ত করে দিতে পারে। তাতে বৈশ্বিক বেকারত্ব ২০ শতাংশে পৌঁছাবে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বা ১৮ কোটি ৬০ লাখ। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, এটি ২০ শতাংশে ঠেকলে বহু পরিবারের জন্য ভয়াবহ দুর্ভোগ তৈরি হবে। একইসঙ্গে নীতিনির্ধারকদের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
সম্ভাব্য এই পরিস্থিতি এড়াতে এখনই প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়েছেন ভার্চুয়াল ক্যারিয়ার কোচিং ও প্রফেশনাল ব্র্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ‘ওয়ার্ক ইট ডেইলি’র সিইও জেটি ডনেল। নিজের লিঙ্কডইন অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, মেধাভিত্তিক কাজ এখন ‘বিজনেস অব ওয়ান’ বা একক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। নিজের দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাই একজন ব্যক্তির সম্পদ। সেগুলো কাজে লাগিয়ে আয়ের নতুন দক্ষতা শিখতে হবে। শেখার এই প্রচেষ্টার কোনো শেষ নেই।