স্কুল থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা, মেঝে খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার
জামিনুর ইসলাম
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৪১
অন্য দিনের মতোই স্কুলে গিয়েছিল প্রথম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী (৭)। ছোট্ট হাতে ছিল বই-খাতা। স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে যাবে– প্রতিদিনের রুটিন হলেও সেদিন এর ব্যতিক্রম ঘটে। কেননা, তার আর বাড়ি ফেরা হয়নি। স্কুল থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় ওই শিক্ষার্থী। মা-বাবা ও স্বজনদের উৎকণ্ঠা, বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি আর থানায় সাধারণ ডায়েরির তিন দিন পর মিলল তার সন্ধান। তবে জীবিত নয়, ধর্ষকের বসতঘরের মেঝের নিচে মাটিচাপা অবস্থায়।
তার এমন মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে বয়সে মায়ের হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার কথা, সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা আর পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকার কথা, সেই বয়সে তাকে হারিয়ে এখন নির্বাক পরিবারের সদস্যরা।
জামালপুরের মাদারগঞ্জে ওই শিশুকে স্কুল থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন জামিনুর ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। ঘটনা ধামাচাপা দিতে নিজের বসতঘরের মেঝেতে গর্ত খুঁড়ে মরদেহ মাটিচাপা দেন। ঘটনার তিন দিন পর শনিবার গভীর রাতে ওই ঘরের মেঝে খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায় শিশুটি। নির্ধারিত সময়ে বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন মা ছুটে যান স্কুলে। সেখানে না পেয়ে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে রাতেই মাদারগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন বাবা। এরপর শিশুটির সন্ধানে তৎপর হয় পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাদারগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ওই গ্রামের জামিনুর ইসলামের বসতঘরে অভিযান চালায়। পরে ঘরের মেঝেতে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করলে মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসে শিশুটির মরদেহ।
শিশুটির মায়ের বিলাপ থামছেই না। নিষ্পাপ মেয়েকে হারিয়ে তিনি দীর্ঘমেয়াদি বিচার প্রক্রিয়ায় যেতে চান না। তাঁর দাবি, ধর্ষণকারী ও খুনি জামিনুর ইসলামের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। মেয়ের হত্যাকারীর ফাঁসি চান তিনি।
মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্নেহাশিস রায় বলেন, জামিনুর ইসলাম শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে পুলিশ ও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জামালপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।