রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীকে আটকে মুক্তিপণ, গ্রেপ্তার ৪
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:০৯
এক হোটেল ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে প্রেমের ফাঁদ (হানি ট্র্যাপ) পেতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মির্জা মুজাহিদুল ইসলাম গাজীকে (২৮) আটকে নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেছেন ওই তরুণ।
পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক নারীসহ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন– নগরীর বোয়ালিয়ার শেখপাড়া মহল্লার মোহাম্মদ তৌকির জাহান স্মরণ, রাজপাড়া থানা এলাকার ভাটাপাড়া এলাকার আবু রায়হান, একই এলাকার শাহরিয়ার মনন ও রাজপাড়া থানার বহরামপুর মহল্লার জুনাইরা ইসলাম। এর মধ্যে আবু রায়হানের বাবা জাহাঙ্গীর আলম রাজপাড়া থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক। মুজাহিদুল পুঠিয়ার কান্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা। রাজশাহী শহরের একটি ছাত্রাবাসে থেকে চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
মুজাহিদুল ইসলাম এজাহারে উল্লেখ করেন, শনিবার সকাল ৮টার দিকে তিনি ব্যক্তিগত কাজে রাজশাহী শহরে আসেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বোয়ালিয়া মডেল থানা এলাকার স্বচ্ছ টাওয়ারের পশ্চিম পাশে বিসিএস কোচিং সেন্টার থেকে বের হয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় স্বচ্ছ টাওয়ারের পশ্চিম পাশে রাস্তার ওপর এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর ধাক্কা লাগে। বিষয়টি নিয়ে ঘটনাস্থলে থাকা তিন ব্যক্তি তাঁকে গালমন্দ করেন। পরে একটি মেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। মেয়েটি সমস্যা সমাধানের কথা বলে তাঁকে কৌশলে অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তিসহ স্বচ্ছ টাওয়ারের ১৫ তলায় নিয়ে যান এবং তাঁকে একটি ফ্ল্যাটের ভেতরে ঢোকানো হয়।
পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, ওই ফ্ল্যাটের মালিক রাজশাহী নগরের হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী খন্দকার হাসান কবির। তাঁর সঙ্গে গ্রেপ্তার আসামি মোহাম্মদ তৌকির জাহানের আত্মীয়তার সূত্র রয়েছে। সেই সূত্র ধরেই তিনি হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে ফ্ল্যাটের চাবি নিয়ে এসে তালা খুলে ভেতরে ঢোকেন।
এ ব্যাপারে হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের মালিক খন্দকার হাসান কবির জানান, তিনি ওই ফ্ল্যাটের মালিক। এখানে তিনি ও তাঁর বড় ছেলে মাঝেমধ্যে থাকেন। হোটেল ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা একটা ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে ঘর খুলেছি।
মামলার বাদী এজাহারে আরও উল্লেখ করেছেন, ফ্ল্যাটের ভেতরে নেওয়া মাত্রই গামছা দিয়ে তাঁর মুখ বেঁধে অজ্ঞাতনামা ওই তিন ব্যক্তি (তিন আসামি) এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এক পর্যায়ে দুটি শর্তে তারা তাঁকে ছেড়ে দিতে রাজি হন। শর্ত দুটি হচ্ছে, তাদের সঙ্গে থাকা মেয়ে দিয়ে ‘কট’ দেখিয়ে পুলিশে দেবেন, আর না হয় তাদের এক লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা তাঁকে আবারও মারধর করেন এবং মেয়েকে তাঁর পাশে বসিয়ে ভিডিও ধারণ করেন। তারা তাঁর মোবাইল থেকে বড় বোনের নম্বরে কল করেন। তাঁর বোনের স্বামী অপহরণকারী শাহরিয়ার মননের পূবালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ৩০ হাজার টাকা পাঠান। এ ছাড়া তাঁর কাছে থাকা ১০ হাজার টাকাও তাঁরা জোর করে কেড়ে নেন। ৪০ হাজার টাকা তিনি তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন বাবদ দিয়েছেন মর্মে একটি ডায়েরিতে লিখে তাঁর সই নেন। পরে তাঁকে হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
শনিবার রাতেই বোয়ালিয়া থানায় মামলা হলে পুলিশ রোববার ভোরে অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
আসামি আবু রায়হানের বাবা বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। বন্ধুরা বিপদে পড়ে তাঁকে ডেকেছিল এবং তাদের উদ্ধার করতে সেখানে গিয়েছিল।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
বোয়ালিয়া থানার ওসি মাসুমা মুস্তারী বলেন, আমরা বিষয়টি জানার পরপরই ব্যবস্থা নিয়েছি।