ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাবনায় কিশোর হত্যার ঘটনায় যুবক গ্রেপ্তার, ছিনতাই হওয়া ভ্যান উদ্ধার

পাবনায় কিশোর হত্যার ঘটনায় যুবক গ্রেপ্তার, ছিনতাই হওয়া ভ্যান উদ্ধার
×

ইমন হোসেন

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:২৩

পাবনার ফরিদপুরে বড়াল নদীর তীর থেকে কিশোর সাকিবুল ইসলাম ওরফে সাকিব (১৩) হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ইমন হোসেনকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ইমন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কালিয়াকৈর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে। তবে সে বর্তমানে ফরিদপুর উপজেলার দিঘুলিয়া গ্রামে বসবাস করে।

এর আগে গত রোববার বিকেলে ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা ইউনিয়নের মাজাট গ্রামে বড়াল নদী থেকে সাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সাকিব উপজেলার রতনপুর গ্রামের হারিছ প্রামাণিকের ছেলে। পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের মাথায় গুরুতর আঘাত, খুলি ভাঙা এবং নাক-মুখে রক্তের দাগ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সাকিব গত রোববার সকালেও অটোভ্যান নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। সে ডেমরা-ফরিদপুর রাস্তায় যাত্রী পরিবহন করত। তবে ওই দিন দুপুর থেকে সাকিবের সঙ্গে তার পরিবারের কোনো যোগাযোগ ছিল না। একপর্যায়ে মাজাট গ্রামের লোকজন গ্রামের উত্তরে বড়াল নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করার পর সেটি সাকিবের বলে নিশ্চিত হয়। এ সময় তার অটোভ্যানটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিহত সাকিবের বাবা হারিছ প্রামাণিক অভিযোগ করেন, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তার ছেলেকে হত্যা করে মরদেহ নদীর তীরে ফেলে রেখে অটোভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দিনই ফরিদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলা হওয়ার পরপরই হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার ধানুয়াঘাটা গ্রাম থেকে সাকিবের অটোভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম মাসুদ বলেন, গ্রেপ্তার ইমনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন

×