ঢাকা মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
×

আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের কয়েক দফা আলোচনা হয়

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:২৩ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৫২

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) আর্কিটেকচার বিভাগে শিক্ষক সংকট নিরসন ও ১৬ জন শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রায় আট ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান।

গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবরের হস্তক্ষেপ ও আশ্বাসের পর সোমবার রাত ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে সোমবার সকাল থেকে আন্দোলন শুরু করেন আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দপ্তরের সামনে অবস্থান নিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করেন। এরপর দীর্ঘ সময় নিজ দপ্তরেই অবস্থান করেন উপাচার্য।

আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের কয়েক দফা আলোচনা হয়। তবে দাবি ও প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে মতবিরোধ থাকায় তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান হয়নি। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়। পরে শিক্ষার্থীরা অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যান।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী হামীমুর রহমান, মাহজেবিন আক্তার ও ইমরুল কায়েস বলেন, আর্কিটেকচার বিভাগে বর্তমানে মাত্র তিনজন শিক্ষক কর্মরত। এতে একাধিক ব্যাচের নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা, খাতা মূল্যায়নসহ বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ ব্যাচ সেশনজটে পড়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ১৬ জন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।

আন্দোলন চলাকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সোমবার রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে তাদের দাবির বিষয়ে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন।

ডা. কে এম বাবর বলেন, শিক্ষার্থীদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) যাবেন। সেখানে আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষক সংকট ও ১৬ জন শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। তার এই আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ডা. কে এম বাবরের নেতৃত্বে উপাচার্য ও শিক্ষার্থীরা ইউজিসির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবরের হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষক সংকট নিরসনে এখন তারা এমপির নেতৃত্বে কাজ শুরু করেছেন। আশা করছেন, এ বিষয়ে ভালো সমাধান হবে।

আরও পড়ুন

×