ছাত্রদল নেতার মোটরসাইকেল আটকের জেরে এসপি কার্যালয় ঘেরাও
পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:১৮
নিবন্ধন না থাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান আক্তারের মোটরসাইকেল আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয় ঘেরাও করেছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। সোমবার রাতে প্রায় এক ঘণ্টা কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন তারা। পরে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নিউ মার্কেট এলাকায় একটি চেকপোস্টে আক্তারুজ্জামানের মোটরসাইকেল থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই করেন পুলিশ সদস্যরা। মোটরসাইকেলটির নিবন্ধন না থাকায় সেটি আটক করা হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে আক্তারুজ্জামানের বাগ্বিতণ্ডা হয়।
পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ছাত্রদলের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। প্রধান ফটকের সামনে অবস্থানের কারণে ভেতরে থাকা পুলিশ সদস্যরা কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
এ সময় ঘটনাস্থলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন ছাত্রদল নেতা-কর্মী গণমাধ্যমকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতেও তাদের চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে আলোচনা শেষে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, আক্তারুজ্জামানের মোটরসাইকেলটির কাগজপত্র ছিল না। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চেকপোস্টে টিএসআই উজ্জ্বল কুমার মোটরসাইকেলটি থামার সংকেত দেন। এ সময় আক্তারুজ্জামানের সঙ্গে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলটি আটক করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
ওয়াসিম ফিরোজ আরও বলেন, সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্রদল নেতা-কর্মী ছিলেন। তাদের কেউ কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করেন। পরে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে। মোটরসাইকেলটির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং বিষয়টির সমাধান করেছি। এখানে কোনো মামলা হয়নি।’
এদিকে গণমাধ্যমকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মীম ফজলে আজিম বলেন, মোটরসাইকেল আটক করা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে থাকলে সেটিও ভুল হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বলেন, সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাকে থামায়। তিনি কাগজপত্র দেখান। এ সময় পাশের লোকজন পুলিশের উদ্দেশে বিভিন্ন কথা বলছিলেন। তিনি বিষয়টি নিজের উদ্দেশে বলা হচ্ছে মনে করায় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।
আক্তারুজ্জামানের দাবি, মোটরসাইকেল নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না। ভুল বোঝাবুঝির একপর্যায়ে কথোপকথনের সময় তার হাতে থাকা ফোন পুলিশ সদস্যরা চেয়ে নেন। পরে ফোনটি ফেরত নেওয়ার জন্য তিনি পুলিশ সুপারের কাছে যান। সেখানে বিষয়টি জানানোর পর আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে।
- বিষয় :
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ
- ছাত্রদল
- পুলিশ