অপ্রতিম হত্যা: আটক কিশোরের বাড়ি থেকে আইফোন উদ্ধার
ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০২:৫৬ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৩:০৮
কুমিল্লায় নিহত স্কুলছাত্র ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আটক এক কিশোরের বাড়ি থেকে তার আইফোনটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কোটবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মফিজ উদ্দিন ভূইয়া।
শনিবার রাতে সমকালকে তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকায় ওই কিশোরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নিহত অপ্রতিমের আইফোনটি উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনিবার বিকেলে পুলিশ তাকে আটক করে।’
পরিদর্শক মফিজ উদ্দিন আরও বলেন, ‘ওই কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী- সন্ধ্যার পর অপর দুজনকে আটক করে পুলিশ। তাদের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। এছাড়া এসআরবি হেফাজতে আছেন সন্দেহভাজন আরও একজন।’
জানা গেছে, শনিবার রাত আটটার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়–সংলগ্ন সালমানপুর এলাকায় ওই কিশোরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ফোনটি উদ্ধার করে জেলা পুলিশের একটি দল। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশ। অপ্রতিম তার মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের এই ফোনটি নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল।
শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘ডিবি ও এসআরবি হেফাজতে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।’ এ ঘটনায় রোববার মামলা করবে অপ্রতিমের পরিবার।
রাত পৌনে ১১টায় কুমিল্লা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মোহাম্মদ শামসুল আলম শাহ সমকালকে বলেন, স্কুলছাত্র হত্যার রহস্য বের করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের আটক করা হয়েছে। রোববার পুলিশ সুপার এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন।
ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রথমে এক কিশোরকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও দু’জনকে আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস। তিনি জানান, অপ্রতিম নিখোঁজের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতিমের সঙ্গে ওই কিশোরকে দেখা যায়। পরে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে।
অপ্রতিমের মরদেহ শনিবার দুপুরে কুবি ক্যাম্পাসের পাশের জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। এর আগে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিহত অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
মাথায় গুরুতর আঘাত ও পুরো শরীরে বেশ কিছু জখমের চিহ্ন মিলেছে স্কুলছাত্র ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে। পুলিশের ধারণা- মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হতে পারে।
সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই সাইফুল ইসলাম। আজ রাত ১০টার দিকে সমকালকে তিনি বলেন, ‘অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মাথায় আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘শরীরের বিভিন্ন স্থানে আরও ছোটখাটো কিছু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’
ময়নাতদন্তে অংশ নেওয়া একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মাথায় আঘাতে মৃত্যু হয়েছে বলে আপাতত আমরা ধারণা করছি। তবে তাকে শ্বাসরোধ কিংবা হত্যার আগে চেতনানাশক কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কিনা- এটা নিশ্চিত হতে শরীর থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।’
অপ্রতিমের পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বাড়ি থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাকে না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘শুক্রবার জুমার নামাজের পর অপ্রতিম আমাদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খায়। পরে বন্ধুদের সঙ্গে আইফোন দিয়ে ছবি তুলতে বাইরে যেতে চায়। কিন্তু আর ফিরে আসেনি।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত আইফোনটিই তার মৃত্যুর কারণ হয়েছে।’