ঢাকা রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নদীর গল্পে বহ্নিশিখার ‘নদী আখ্যান’

নদীর গল্পে বহ্নিশিখার ‘নদী আখ্যান’
×

ফাইল ফটো

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৩:২১

আবহমান বাংলার অস্তিত্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক নদীকে কেন্দ্র করে শনিবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বহ্নিশিখা’র নতুন সুর, কবিতা ও নৃত্যানুষ্ঠান ‘নদী আখ্যান’। মানুষের জীবনযাত্রা ও সভ্যতা বিবর্তনে নদীর ভূমিকা এবং বর্তমান সময়ে দখল ও দূষণে নদীর অস্তিত্ব সংকটের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। 

অনুষ্ঠানের সূচনায় থিমেটিক পরিবেশনা ‘নদীর কুল নাই কিনার নাই’-এর মাধ্যমে মূল মঞ্চের পর্দা ওঠে। এরপর এক এক করে দেশের প্রধান সাতটি নদীকে কেন্দ্র করে সাজানো পরিবেশনা নিয়ে হাজির হন বহ্নিশিখার শিল্পীবৃন্দ। ‘নদী কথন- পদ্মা’ পর্বে সাংস্কৃতিক সংগঠক কামাল বায়োজিদের কথামালার পর বসু সেলাম বারেবারের কণ্ঠে একক গান ‘পদ্মার ঢেউ রে’ এবং জুঁই দেবী সূত্রধর ও সহশিল্পীদের মনোজ্ঞ দলীয় নৃত্য পরিবেশিত হয়। ‘নদী কথন- মেঘনা’ পর্বে মানজার চৌধুরী সুইটের কথামালায় পরিবেশিত হয় মোহনা দাসের গান ‘হৃদয়ের একুল ওকুল’, আবিদা রহমান সেতুর ‘নদীর পানি উথাল পাথাল’ এবং মাহফুজা আক্তার মিরার একক আবৃত্তি ‘মেঘনার ঢল’।

‘নদী কথন- যমুনা’ পর্বে কথামালা উপস্থাপন করেন সাংস্কৃতিক সংগঠক ও নৃত্যশিল্পী মাহফুজা আক্তার মিরা। এতে শিমুল সাহা ও সাহিদা রহমান সুরভীর দ্বৈত পরিবেশনায় পেশ করা হয় ‘ও আমার মন যমুনা’। এছাড়া এ পর্বে রাহুল রায় ও নিঝর দাশ গল্পের দ্বৈত গান ‘বাঁকা নদীর তুফান সামলেছে’ এবং দলীয় সংগীত ‘এ নদী এমন নদী’ দর্শকদের মুগ্ধ করে।

পরবর্তী পর্বে ‘নদী কথন - সুরমা’ নিয়ে আসেন সংগীতশিল্পী কাজী মিজানুর রহমান। এ পর্বে তুর্য নন্দী ও মেহেদী সরকারের দ্বৈত কণ্ঠে ‘আমায় ভাসাইলি রে আমায় ডুবাইলি রে’, নিঝর দাশ গল্পের গান এবং ‘সুরমা নদীর গাঙচিল আমি’ গানের সঙ্গে চমৎকার দলীয় নৃত্য তুলে ধরা হয়। ‘নদী কথন- কর্ণফুলী’ পর্বে রওশন জান্নাত রুশনীর উপস্থাপনায় ছিল আবিদা রহমান সেতুর একক গান ‘কর্ণফুলী রে সাক্ষী রাখিলাম তোরে’, তারেক আলী মিলনের আবৃত্তি এবং ছন্দময় দলীয় নৃত্য।

‘নদী কথন- রূপসা’ পর্বে ফয়জুল আলম পাপ্পুর কথামালায় পরিবেশিত হয় শারমিন আক্তার শারুনের গান ‘না মন লাগেনা’, ‘ওরে নীল দরিয়া’ এবং ‘রূপসা নদীর নাও সুজন মাঝির’ সমবেত সুর। ‘নদী কথন - তিস্তা’ পর্বে মাহমুদা সিদ্দিকা সুমির আবৃত্তি ও কথামালার সাথে শিমুল সাহার গান ‘আমাছ মাইসা ভাসাপানি রে’ ও দলীয় আয়োজন স্থান পায়।

অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত পর্বে সকল শিল্পীর সমবেত কণ্ঠে ও কোরিওগ্রাফিতে পরিবেশিত হয় বিখ্যাত কালজয়ী গান ‘এই পদ্মা এই মেঘনা এই যমুনা’। সমগ্র অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনায় ছিলেন গোলাম কুদ্দুছ, সংগীত পরিচালনায় আবিদা রহমান সেতু এবং নৃত্য পরিচালনায় সাহিদা রহমান সুরভী। এই আয়োজনের সঞ্চালনায় ছিলেন মাহফুজা আক্তার মিরা। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য প্রয়াত শহিদুল হাসান শাহীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।
 

আরও পড়ুন

×