ঢাকা রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিরাপদ প্রোটিন উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর

নিরাপদ প্রোটিন উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর
×

‘প্রোটিনের চাহিদা পূরণে খাদ্যের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৩:৫৯

দেশের মানুষের ক্রমবর্ধমান প্রাণিজ প্রোটিনের চাহিদা পূরণে মৎস্য ও পশুখাদ্য উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি নিরাপদ ও মানসম্মত প্রোটিন নিশ্চিত করতে প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট পুষ্টি ব্যবস্থাপনা বা ‘প্রিসিশন নিউট্রিশন’ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।

আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘প্রোটিনের চাহিদা পূরণে খাদ্যের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (এফআইএবি) ও ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের (ইউএসএসইসি) যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, একটি সুস্থ ও মেধাভিত্তিক জাতি গঠনে প্রাণিজ প্রোটিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিরাপদ ও মানসম্মত প্রোটিন উৎপাদনের মূল ভিত্তি মানসম্মত পশু ও মৎস্যখাদ্য। উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে প্রোটিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রচলিত পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে সুনির্দিষ্ট পুষ্টি ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির দিকে যেতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বলেন, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতের মোট উৎপাদন খরচের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই খাদ্যের পেছনে ব্যয় হয়। বিজ্ঞানসম্মত ও আধুনিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খাদ্য রূপান্তর অনুপাত (এফসিআর) উন্নত করতে পারলে খামারিরা সরাসরি উপকৃত হবেন।

তিনি বলেন, ফিডের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত নিরাপদ প্রাণিজ প্রোটিন উৎপাদনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কাজ করছে।

সেমিনারে এফআইএবির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ারুল হক বলেন, বিশ্ববাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও কাঁচামালের দামের ওঠানামার কারণে দেশের ফিডশিল্পকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ হতে হবে। সুনির্দিষ্ট পুষ্টি অনুযায়ী খাদ্যের উপাদান নির্ধারণ এবং উন্নত কাঁচামালের সঠিক ব্যবহার নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সয়াবিন ও আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য দেন ইউএসএসইসির বাংলাদেশ বাজারবিষয়ক প্রধান খাবিবুর রহমান, পূর্ব এশিয়া জলজ প্রাণী চাষবিষয়ক প্রধান লুকাস মানোমাইটিস, ঝু এনহুয়া (জো) ও সিয়াং পিন ল্যান শান। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কোয়ালিটি ফিডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহতেশাম বি. শাহজাহান।

দিনব্যাপী সেমিনারে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপুষ্টি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মো. শফিকুর রহমান শিশির, এগ্রো সল্যুশনের জলজ প্রাণীর পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শক অং থোয়েন এ এবং বাংলা-ইউকে এগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম পোলট্রি ও মৎস্যখাদ্যের আধুনিক প্রস্তুত প্রণালি, উৎপাদন খরচ কমানোর কৌশল এবং টেকসই পুষ্টি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারিগরি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সেমিনারের সমাপনী বক্তব্য দেন এসিআই গোদরেজ এগ্রোভেট প্রাইভেট লিমিটেডের সহযোগী ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী প্রাণিজ প্রোটিন উৎপাদনের জন্য ফিডের মান, সঠিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে খামারি পর্যায়ে এসব প্রযুক্তি ও জ্ঞান পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন

×