বাঁশ কাটা নিয়ে বিরোধ, দেবিদ্বারে বাঁশ-বেতের কারিগরকে কুপিয়ে হত্যা
নিহতের স্বজনদের আহাজারি। ছবি: সমকাল
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ০৪:৫৪
কুমিল্লার দেবিদ্বারে বাঁশঝাড়ের মালিকানা ও বাঁশ কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে শফিকুল ইসলাম (৪৫) নামের এক বাঁশ-বেতের কারিগরকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছেন তার স্ত্রী নারগিস আক্তার। এ ঘটনায় এনামুল হক লিমন (৪৭) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বারুর গ্রামের জয়নাল আবেদীন (এনু) মেম্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শফিকুল ওই গ্রামের মৃত মোয়াজ উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শফিকুল বাঁশ ও বেত দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বিকেলে বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কাটতে গেলে একই বাড়ির মৃত জয়নাল আবেদীন (এনু) মেম্বারের ছেলে এনামুল হক লিমন ও তার ভাতিজা এমদাদুল হক নিশাদ (২৬) বাধা দেন। বাঁশঝাড়টি নিজেদের বলে দাবি করায় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, একপর্যায়ে লিমন, নিশাদসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শফিকুলের ওপর হামলা চালান। তাকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো ও দা দিয়ে কোপানো হয়। পরে লিমন ছুরি দিয়ে তার পেটে আঘাত করলে শফিকুল মাটিতে পড়ে যান। স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে নারগিসকেও মারধর করা হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত শফিকুল ও নারগিসকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শফিকুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
শফিকুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন লিমনের বাড়ি ঘেরাও করেন। পরে তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় বলে জানা গেছে।
নারগিস আক্তার বলেন, তার চোখের সামনে স্বামীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। তাদের তিনটি ছোট সন্তান রয়েছে। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বাঁশ কাটা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতের গলা ও পেটে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় এনামুল হক লিমনকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।