ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

তালাবদ্ধ বাসায় শিক্ষিকার হাত-পা বাঁধা মরদেহ

তালাবদ্ধ বাসায় শিক্ষিকার  হাত-পা বাঁধা মরদেহ
×
×

 বরিশাল ব্যুরো 

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:১২

| প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশাল নগরীতে একটি তালাবদ্ধ বাসা থেকে এক শিক্ষিকার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় রোকেয়া আজিম সড়কের একটি ভবনের দোতলা বাসা থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদিন কুমিল্লা, কক্সবাজার ও যশোরে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। 
বরিশালে নিহতের নাম আমেনা খানম (৬৫)। তিনি হিজলা উপজেলার দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। তাঁর বড় ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা রিফাত ঢাকায় এবং ছোট ছেলে রিয়াদ হিজলা উপজেলার গ্রামের বাড়িতে থাকেন। 

কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকালে বড় ছেলের ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বাসাটি বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে খাটের ওপর ওপর আমেনা বেগমের হাত-পা বাঁধা মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহ ফুলে দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে কমপক্ষে দুইদিন আগে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে মরদেহের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুরহস্য উদঘাটনে তাঁর দুই ছেলেকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। 
ভবন মালিক রিনা বেগম জানান, এক বছর আগে আমেনা বেগম ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। তিনি একাই থাকতেন। তাঁর দুই ছেলে মাঝে মাঝে আসত। তিনি ভবনের অন্যদের সঙ্গে তেমন মিশতেন না। ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পর তাঁর বড় ছেলেকে খবর দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে রিফাত পৌঁছে তালা খুলতে না পেরে কাউনিয়া থানায় খবর দেন। পুলিশ দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। 
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, হত্যা রহস্য উদঘাটনে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 

দেবিদ্বারে বাঁশের কারিগরকে কুপিয়ে হত্যা
কুমিল্লার দেবিদ্বারে বাঁশঝাড়ের মালিকানা ও বাঁশ কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে শফিকুল ইসলাম (৪৫) নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বারুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শফিকুল ওই গ্রামের মৃত মোয়াজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি বাঁশ-বেতের কারিগর ছিলেন। 
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ির পাশে বাঁশঝাড় থেকে শফিকুল বাঁশ কাটতে গেলে একই বাড়ির মৃত জয়নাল আবেদিন (এনু) মেম্বারের ছেলে এনামুল হক লিমন ও তাঁর ভাতিজা এমদাদুল হক নিশাদ বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে লিমন, নিশাদসহ কয়েকজন দেশি অস্ত্র নিয়ে শফিকুলের ওপর হামলা চালান। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর স্ত্রী নারগিস আক্তারকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শফিকুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে স্থানীয় লোকজন লিমনের বাড়ি ঘেরাও করে তাঁকে ধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয়। দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। 

কক্সবাজারে আবাসিক হোটেলে নারীর রক্তাক্ত মরদেহ
কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে কুলসুমা আক্তার নামে এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই কক্ষে তাঁর দুই বছরের শিশুও ছিল। শিশুটি অক্ষত রয়েছে। 
গত বুধবার রাতে বাস টার্মিনাল এলাকার স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্টের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কুলসুমা ঈদগাঁও উপজেলার চান্দেরঘোনা এলাকার আলমের মেয়ে। 
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে এক যুবক ও কুলসুমা দুই বছরের শিশুসহ স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওই কক্ষে ওঠেন। পরদিন শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ওয়াশরুমে গিয়ে কুলসুমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তবে কুলসুমার সঙ্গে থাকা যুবকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। 
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, কুলসুমার সঙ্গে থাকা যুবকটি তাঁর স্বামী নন। তাঁকে শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।

অভয়নগরে সুপারি বাগান থেকে ভ্যানচালকের মরদেহ উদ্ধার
যশোরের অভয়নগরে মালেক শেখ (৫০) নামে এক ভ্যানচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া এলাকার একটি সুপারি বাগান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মালেক উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের মরিচা-ভবানীপুর এলাকার ধলামিয়া শেখের ছেলে। 
অভয়নগর থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান জানান, তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। 
(তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যুরো ও প্রতিনিধি)

আরও পড়ুন

×