ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সীমান্তে হাত বাড়ালেই মেলে চোরাই পথে আনা প্রসাধনী

সীমান্তে হাত বাড়ালেই মেলে চোরাই পথে আনা প্রসাধনী
×
×

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২০

| প্রিন্ট সংস্করণ

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে হাত বাড়ালে মিলছে ভারতীয় প্রসাধনী। চোরাই পথে আনা এসব প্রসাধনী সামগ্রী রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে তেমন দেশীয় পণ্যের বাজারে পড়ছে প্রভাব।

গারোপাহাড়ের লোকজন জানান, বিজিবির হাতে জব্দ প্রসাধনীর চেয়ে অনেক বেশি প্রসাধনী তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে আনা হচ্ছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলো দিয়ে অবৈধ পণ্য আসা ঠেকাতে তৎপরতা দেখালেও সীমিত জনবল নিয়ে চোরাকারবারীদের সঙ্গে বিজিবি পেরে উঠছে না।
গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে বিজিবির একটি টহল দল শ্রীবরদী উপজেলার কর্ণঝোড়া সীমান্ত দিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী জব্দ করে। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় চোরাকারবারীরা। এভাবে মাঝে মধ্যে সীমান্তে ধরা পড়ছে চোরাচালান। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিজিবি যে পরিমাণ পণ্য জব্দ করছে সীমান্তের বিভিন্ন চোরাই পথে তার চেয়ে অনেক বেশি পণ্য আনা হচ্ছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার সকালে সিংগাবরুনা ইউনিয়নের কর্ণঝোড়া সীমান্ত ফাঁড়ির সুবেদার ফুল মিয়া ও নায়েক আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে টহল দল ভারতঘেঁষা হারিয়াকোনা গ্রামে চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালায়। এ সময় বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রীর বাক্স ফেলে পালায় চোরাকারবারীরা। উদ্ধার প্রসাধনী 
পণ্যের বাজার মূল্য ১১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বলে জানান তারা।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সিংগাবরুনা ইউনিয়নের ডুমুরতলা বিট অফিস-সংলগ্ন এলাকায় শিশুদের জন্য ব্যবহৃত ভারতীয় জনসন সাবানের একটি চালান জব্দ করে বিজিবি। এসব সাবানের মূল্য ছয় লাখ ৫২ হাজার টাকা।
এ ব্যাপারে হারিয়াকোনা গ্রামের আদিবাসী লোকজন জানান, বিজিবি যে পরিমাণ পণ্য জব্দ করছে সীমান্তের বিভিন্ন চোরাই পথে তার চেয়ে অনেক বেশি পণ্য আনা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা চোরাচালানে বড় বড় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করে অর্থ উপার্জন করছেন। তারা দরিদ্র মানুষ, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে মুখ খুললে বিপদে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এমনকি প্রাণনাশের শঙ্কাও আছে। তাই সব জেনেও মুখ খুলতে পারছেন না।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্রীবরদীর এক ব্যবসায়ী বেড়াতে গিয়েছিলেন কর্ণঝোড়া মেঘাদল শয়তান বাজারে। তিনি বলেন, ‘বিকেলে প্রকাশ্যে দেখতে পেলাম যুবকরা বস্তায় ভরে সীমান্ত সড়ক দিয়ে  কসমেটিকস (প্রসাধনী) নিয়ে যাচ্ছে। আবার কয়েকজনকে দেখলাম সীমান্ত থেকে নিয়ে আসছে তিনটি গরু। দেখে খুব খারাপ লাগল।’
আদিবাসী নেতা মিঠুন সাংমা জানান– শেরপুর জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রীর দোকানে ভারতীয় পণ্যে সয়লাব। দেশীয় পণ্য না কিনে ভারতীয় পণ্যের দিকে ভোক্তাদের নজর বেশি। এতে ক্ষতি হচ্ছে দেশীয় পণ্যের বাজার।
এসব ব্যাপারে সিংগাবরুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুজ্জামান কালুর ভাষ্য, প্রচুর চোরাই পণ্য সীমান্ত দিয়ে আসছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই কাজে জড়িত। বিজিবি চেষ্টা করছে। কিন্তু তাদের একার পক্ষে চোরাচালান দমন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন হবে। তাই সত্য কথা বললে বিপদ বাড়াতে চাচ্ছি না। সম্মানজনকভাবে চেয়ার থেকে বিদায় নিতে পারলে বেঁচে যাই।’
চোরাই প্রসাধনী সামগ্রী জব্দের সত্যতা নিশ্চিত করে ৩৯ বিজিবির ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে তারা সর্বদা জাগ্রত রয়েছেন এবং চোরাচালান দমনে কঠোরতা নীতি অনুসরণ করছেন।

আরও পড়ুন

×