ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

রঙের ছোঁয়ায় সাজছেন দুর্গা

রঙের ছোঁয়ায় সাজছেন দুর্গা
×
×

শিবালয়ের উথলী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে প্রতিমায় রঙের আঁচড় দিচ্ছেন কারিগর সমকাল

 নিরঞ্জন সুত্রধর, শিবালয় (মানিকগঞ্জ) 

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হবে ১৭ অক্টোবর। তাই শিবালয় উপজেলার মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি শেষে রংতুলির আঁচড় দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। এ উপজেলায় এবার ৯৩টি দুর্গা মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

পূজার দিন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মণ্ডপগুলোয় ব্যস্ততা বাড়ছে পাল সম্প্রদায়ের লোকজনের। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন তারা।
উপজেলার উথলী সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করছেন আনন্দ কুমার পাল ও তাঁর লোকজন। আনন্দ কুমার বলেন, দুর্গাপূজার আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। এখন আমাদের দিনরাত প্রতিমা তৈরি শেষে রংতুলির কাজ করতে ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। তিনি জানান, উপজেলার অনেক কারিগর ১৫-১৬টি প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে প্রতিমার কাজ শেষ করতে বাড়তি সময় দিতে হচ্ছে তাদের। 

উপজেলার কর্মকার পাড়া সার্বজনীন দুর্গা মণ্ডপে প্রতিমায় রংতুলির কাজ করছিলেন প্রদীপ পাল। তিনি জানান, মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি উপজেলায় ১২টি প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে শিবালয়ে চারটি, ঘিওরে পাঁচটি ও সাটুরিয়ায় তিনটি। প্রতিটি প্রতিমা তৈরি করতে ১০-১২ দিন করে সময় লাগে। তিনি চার-পাঁচজন কারিগর নিয়ে কাজ করছেন। প্রতিমা তৈরি করা আগেই শেষ হয়েছে। এখন মন্দিরগুলোয় ঘুরে ঘুরে প্রতিমায় রঙের কাজ করতে হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিমা তৈরির পর এক একটিতে রং করতে প্রায় দুদিন করে সময় লাগে। ভালোমতো না শুকিয়ে রংতুলির কাজ করলে প্রতিমা সুন্দর হয় না। এ কারণে পূজা শুরু হওয়ার প্রায় ১২-১৪ দিন আগেই প্রতিমার গায়ে মাটি লাগানো শেষ করে এখন রংতুলির কাজ করছি। যে প্রতিমা বেশি শুকানো হবে, সেটি তত বেশি সুন্দর দেখা যাবে। 
উপজেলার উথলী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা তৈরি করছেন নিতাই পাল ও তাঁর লোকজন। তিনি বলেন, ১০টি দুর্গা প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছেন। সময় কম থাকায় রাত জেগে প্রতিমা রংতুলির করতে হচ্ছে তাদের। তিনি জানান, একেক মন্দিরে প্রতিমা তৈরি শেষে অন্য মন্দিরে গিয়ে কাজ করেন তারা। মন্দির কমিটির লোকজনই তাদের থাকাখাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
প্রতিটি দুর্গা মণ্ডপের সামনে বিশাল বিশাল তোরণ তৈরির কাজ শুরু করছে মন্দির কমিটির লোকজন। পূজা শুরু হওয়ার এক-দেড় সপ্তাহ আগেই প্রতিটি মন্দিরের সামনে তোরণ তৈরি করা হয়ে যাবে। এরপর করা হবে লাইটিংসহ নানা সাজসজ্জা।

উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি নিখিল মালো বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা করতে পারবে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। এ উপজেলায় পূজার সময় কোনো সমস্যা হয় না। এ ছাড়া আমরা কল্যাণ ফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রতিদিন প্রতিটি দুর্গা মন্দির পরিদর্শন করি। তিনি আরও বলেন, উপজেলার কোনো এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ মন্দির নেই। 
শিবালয় থানার ওসি অমিনুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজার সময় কড়া নিরাপত্তা দেওয়া হবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা রানী কর্মকার বলেন, উপজেলার সব মন্দির কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। কোনো এলাকার মন্দির ঝুঁকিপূর্ণ থাকলে সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পূজার সময় কোনো মন্দিরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না। 

আরও পড়ুন

×