ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সৎ মাকে মারধর, হাত-পা বেঁধে রাতে ফেলে যান গাছতলায়

সৎ মাকে মারধর, হাত-পা বেঁধে রাতে ফেলে যান গাছতলায়
×
×

প্রতীকী ছবি

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:০৮ | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:১৩

জয়পুরহাটের কালাইয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী সৎ মাকে মারধরের পর হাত-পা বেঁধে বাড়ির বাইরে তেঁতুলগাছের নিচে রাতভর ফেলে রাখার ঘটনা ঘটেছে। মারধরে ফাতেমা (৫০) নামে ওই নারীর দাঁত ভেঙে গেছে। তাঁর হাত, বুক, পিঠ ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। 

সৎ ছেলে ও ছেলের বউরা ওই নারীকে মারধার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও তাকে কয়েকবার মারধর করা হয় বলে জানান প্রতিবেশীরা।

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের মাদাই খরপা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফাতেমা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তাঁর স্বামী মো. খয়বর আলীর বয়স ৮৫ বছর। অসুস্থতার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। স্বামী-স্ত্রীর ভরণ-পোষণ ও দেখভাল নিয়ে সন্তান ও তাঁদের স্ত্রীদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে খয়বর আলীর আগের পক্ষের ছেলে আব্দুল খালেক ও আব্দুল খলিল এবং তাঁদের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে ফাতেমাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে তাঁর হাত-পা বেঁধে বাড়ির বাইরে তেঁতুলগাছের নিচে ফেলে রাখা হয়। সকালে প্রতিবেশীরা তাঁকে সেখানে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

প্রতিবেশী রিমি আক্তার বলেন, সৎ ছেলে ও ছেলের বউ মিলে ফাতেমাকে মারধর করেছেন। সকালে তেঁতুলগাছের নিচে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে গ্রামের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

আরেক প্রতিবেশী পারমিনা আক্তার বলেন, এর আগেও ফাতেমাকে তাঁর ছেলেরা মারধর করেছেন। এবার তাঁর দাঁত পর্যন্ত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার বিচার দাবি করেন তিনি।

প্রতিবেশী ছাফিয়া বলেন, সৎ ছেলে ও ছেলের বউদের অত্যাচারের কারণে ফাতেমা বাড়িতে থাকতে পারতেন না। অসুস্থ স্বামীর খাবারের জন্য তিনি গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে যাতায়াত করতেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল খলিল। তিনি বলেন, ‘আমরা তাঁকে মারপিট করিনি। ওই রাতে আমার ভাই আব্দুল খালেক সৎ মাকে ধরেছিল, আর বাবা তাঁকে মারপিট করেছে। তাতে আমাদের দোষ কী?’ তবে ফাতেমাকে বেঁধে রাখা, মারধরে দাঁত ভেঙে যাওয়া ও হাতে আঘাতের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সবই সত্য, তবে আমরা মারপিট করিনি।’

ফাতেমার ভাই মো. আলম হোসেন বলেন, তাঁর বোনকে নিয়মিত মারধর করা হতো। এ নিয়ে একাধিকবার বিচার-শালিসও হয়েছে। বয়স বেশি হওয়ায় তাঁকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যেতে পারেননি। ঘটনার পরদিন রাতে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে বোনকে দেখতে পান। চিকিৎসকের পরামর্শে পরে তাঁকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এর আগেই প্রতিবেশীরা ফাতেমাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×