ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সুন্দরবনে ডাকাতির চেষ্টা, বনরক্ষীদের গুলিতে পালাল দস্যু

দুই জাহাজের পর্যটকের মধ্যে আতঙ্ক

সুন্দরবনে ডাকাতির চেষ্টা, বনরক্ষীদের গুলিতে পালাল দস্যু
×
×

ফাইল ছবি-সংগৃহীত

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:২৮ | আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:০৩

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য এলাকায় জেলেদের ট্রলারে ডাকাতির চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বনরক্ষীদের গুলিবর্ষণের পর সন্দেহভাজনরা ট্রলার নিয়ে সাগরের দিকে পালিয়ে যাওয়ায় ডাকাতি ব্যর্থ হয়। গত শনিবার রাতে কটকা খালের সাগর মোহনায় এ ঘটনা ঘটে।

বন বিভাগ ও জেলে সূত্রে জানা গেছে, পাস-পারমিট নিয়ে একদল জেলে গভীর সাগরে মাছ ধরছিলেন। রাত ৯টার দিকে সেখানে একদল বনদস্যু ট্রলারে করে তাদের কাছে গিয়ে ডাকাতির চেষ্টা করে। দস্যুদের ভয়ে জেলেরা ট্রলার নিয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে দস্যুরা জেলেদের ধাওয়া করে ট্রলারগুলোকে কটকার দিকে নিয়ে যায়। অভয়ারণ্য-সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছানোর পর সুযোগ বুঝে জেলেরা মোবাইল ফোনে বন বিভাগের সদস্যদের বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের বনরক্ষীদের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে যায়। এই খবর পেয়ে দস্যুরা জেলেদের ট্রলার থেকে সরে সাগরের দিকে পালানোর চেষ্টা করে।

এ সময় তাদের থামাতে ও ছত্রভঙ্গ করতে বনরক্ষীরা চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দে তারা দ্রুত বনের গহিনে ঢুকে পড়ে। পরে বনরক্ষীরা জেলেদের ট্রলারসহ তাদের নিরাপদে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন। এ ঘটনায় কোনো জেলে হতাহত হননি বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান ইমরান বলেন, দস্যুরা কোন দলের এবং তাদের সংখ্যা কত ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের ধরতে বন এলাকায় নজরদারি করা হচ্ছে।

গুলির শব্দে পর্যটকের মধ্যে আতঙ্ক
ঘটনার সময় কটকা বন অফিস-সংলগ্ন নদী এলাকায় ‘দি ওয়েভ-২’ ও ‘আরাল সি’ নামে দুটি পর্যটকবাহী জাহাজ নোঙর করা ছিল। জেলেদের নৌকায় ডাকাতি ঠেকাতে বনরক্ষীদের ছোড়া গুলির শব্দে পর্যটকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, দস্যুদের সঙ্গে জেলেদের ঘটনার স্থান এবং পর্যটকবাহী জাহাজগুলোর অবস্থান এক জায়গায় ছিল না। ঘটনাস্থল ছিল কটকা অভয়ারণ্য-সংলগ্ন সাগর এলাকার দিকে, আর পর্যটকবাহী জাহাজ দুটি ছিল কটকা বন অফিস-সংলগ্ন নদী এলাকায়। দুই স্থানের দূরত্ব প্রায় দুই কিলোমিটার।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, জেলেদের কাছ থেকে সময়মতো খবর পাওয়ায় বনরক্ষীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পেরেছেন। তাদের তৎপরতায় জেলেদের নিরাপদে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বনরক্ষীরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ার পর দস্যুরা পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, সম্প্রতি সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে। এ কারণে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বন বিভাগের টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×