বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ
চোখে নেই আলো, তবু হাল ছাড়েননি তাঁরা
আজাদ পাটোয়ারী, আবদুল মুহাইমিন ও বোরহান ভূঁইয়া
আতোয়ার রহমান মনির, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৮
প্রিয় স্বজন-শিক্ষার্থীর মুখ তারা দেখতে পান না। দেখতে পারেন না বইয়ের অক্ষরও। তাদের চোখে প্রতিফলিত হয় না পৃথিবীর কোনো আলো, কোনো রং। নিজেদের জীবনের অন্ধকার জয় করে অন্যের ভবিষ্যৎ আলোকিত করাই তাদের ব্রত। লক্ষ্মীপুরে রয়েছেন এমন তিনজন শিক্ষক, যারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়ে যাচ্ছেন।
কণ্ঠ শুনেই শিক্ষার্থী চেনা
লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫ বছর ধরে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষকতা করেন আবুল কালাম আজাদ পাটোয়ারী। জীবনের প্রথম ১০ বছর স্বাভাবিক কাটানোর পর টাইফয়েডে এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। পরে বলের আঘাতে হারান অন্য চোখের দৃষ্টিও। ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে শিক্ষকতায় আসেন। কণ্ঠ শুনেই শিক্ষার্থীদের চেনে নেন তিনি।
ইংরেজি বিষয়ে ইতোমধ্যে ১০টি বই লিখেছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও শিক্ষকদের প্রশ্ন তৈরির জন্য তৈরি করেছেন ‘দি এক্সাম’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মও। তাঁর চাওয়া, সরকার যেন ব্রেইল বই সময়মতো সরবরাহ করে, ব্রেইল প্রিন্টার, ব্রেইল ডিসপ্লে ও স্ক্রিন রিডারের মতো ডিভাইস সরবরাহে সহযোগিতা করে।
ব্রেইল শেখানোর স্বপ্ন
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কালুহাটি রোডে আত্মসংহতি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্রেইল হাফিজিয়া ও কারিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন আবদুল মুহাইমিন। তিনি পার্বতীনগর ইউনিয়নের উত্তর সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা। ইন্টারমিডিয়েট পড়ার পর টাইফয়েডে দৃষ্টিশক্তি হারান। পরে ঢাকায় গিয়ে ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়াশোনা শেখেন। পরে বুঝতে পারেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আরও অনেকের এই শিক্ষার প্রয়োজন। সেই উপলব্ধি থেকে অন্যদের ব্রেইল শেখানোর কাজে যুক্ত হন তিনি।
মুহাইমিন বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপযোগী পরিবেশে শিক্ষা দেওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
গভীর প্রশান্তি শিক্ষকতায়
শিক্ষকতায় গভীর প্রশান্তি খুঁজে পান মো. বোরহান উদ্দিন ভূঁইয়া। ১৯৯৬ সাল থেকে জড়িয়ে আছেন এই পেশায়। সমন্বিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রমে যোগ দিয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়ে আসছেন তিনি। কুমিল্লার সমন্বিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম থেকে এসএসসি ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
বোরহান উদ্দিন বলেন, কোনো শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষক যে আনন্দ ও তৃপ্তি পান, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। নিজের প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য– ‘প্রতিবন্ধিতা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো সমাজের সঙ্গে নিজেকে সমন্বয় করে নেওয়া।’
- বিষয় :
- লক্ষ্মীপুর