সেতুর মুখে রেলের জমি সড়ক নেই, ভরসা মই
সংযোগ সড়ক না থাকায় গাজীপুরের শ্রীপুরের কাওরাইদ গয়েশপুর সেতুতে মই বেয়ে উঠতে হয় স্থানীয়দের। সম্প্রতি তোলা সমকাল
ইজাজ আহমেদ মিলন, গাজীপুর
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:০০
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুতিয়া নদীর এক পারে গাজীপুরের শ্রীপুরের কাওরাইদ। অন্যপাশে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের গয়েশপুর বাজার। দু্ই পারকে যুক্ত করেছে শতবর্ষী একটি রেলসেতু। স্থানীয়রা সহজে যাতায়াতের জন্য ঝুঁকি নিয়ে সেই রেলসেতু ধরেই চলাচল করেন। সম্প্রতি গাজীপুর এলজিইডি রেলসেতুর পাশে একটি সড়কসেতু নির্মাণ করেছে, যার কাওরাইদ প্রান্ত পড়েছে রেলওয়ের জমিতে। সেখানে কোনো সড়ক নেই। ফলে রাস্তার সংস্থান না করে নির্মিত সেতুটি ওভাবেই পড়ে আছে। স্থানীয়রা মই বেয়ে, মাটির স্তূপ মাড়িয়ে উঠছেন সেতুতে।
স্থানীয়রা জানান, ট্রেন চলাচলের ফাঁকে ঝুঁকি নিয়ে শত বছর ধরে ওই রেলসেতু দিয়ে সুতিয়া নদী পারাপার করছেন এলাকার বাসিন্দারা। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ-প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রেললাইনের ওপর দিয়ে পার হয়ে থাকেন নদী। দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় রেলসেতুর পূর্ব পাশে নির্মাণ করা হয় একটি নতুন সেতু। উদ্দেশ্য ছিল নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা।
কিন্তু সেতু নির্মাণ শেষ হলেও সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি এখনও ব্যবহার উপযোগী হয়নি। সেতুর গফরগাঁওয়ের গয়েশপুর বাজার অংশে সড়ক থাকলেও নেই কাওরাইদ অংশে। এ প্রান্ত পড়েছে রেলের জমিতে। এ জমি পেরিয়ে প্রায় অর্ধকিলোমিটার দূরে রয়েছে কাওরাইদ-বরমী সড়ক। তবে সেতুর সঙ্গে এ সড়কের সংযোগ না থাকায় উপকার পাচ্ছেন না স্থানীয়রা।
এ প্রান্তে স্থানীয়রা সেতুর সঙ্গে মই লাগিয়ে নিয়েছেন। এ ছাড়া পাশের মাটির স্তূপের খাড়া ঢাল বেয়েও সেতুতে ওঠা-নামা চলে। সেই ঢাল আর মই বেয়ে প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার সেতুতে উঠতে হয় তাদের। এভাবে প্রতিদিন নদী পার হচ্ছেন শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ। বৃষ্টি হলে খাড়া ঢাল পিচ্ছিল হয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এলাকায় রয়েছে একটি সরকারি, একটি এমপিওভুক্ত ও একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নতুন সেতুটি স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে না পারায় অনেকে এখনও রেলসেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।
২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় সেতু নির্মাণের কাজ। আট কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি চালু করা যায়নি।
কাওরাইদ এলাকার সংবাদপত্রের এজেন্ট হুমায়ূন কবির জিহাদী বলেন, পুরো সেতুর কাজ শেষ হয়ে গেছে। এখন শুধু সংযোগ সড়কের জন্য সমস্যা হচ্ছে। পাশে রেলসেতু থাকায় সবাই সেখান দিয়ে চলাচল করছে। নতুন সেতু তৈরি হলেও এর সুবিধা পাচ্ছি না আমরা।
আল আমীন নামে একজন কলেজশিক্ষার্থী জানায়, সেতুর দক্ষিণ পাশে উঁচু মই দেওয়া হয়েছে। ওই মই দিয়ে সেতুতে উঠতে হয়। সেখানে চলাচল খুব ঝুঁকিপূর্ণ। সংযোগ সড়কটি করে দেওয়া হলে আমাদের কলেজে যেতে অনেক সহজ হতো। সেতুর উত্তর পাশের গয়েশপুর বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক বলেন, গফরগাঁওয়ের ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে আটটি ইউনিয়নের মানুষ এ পথ ব্যবহার করেন।
গাজীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, এই সেতু নির্মাণ হয়েছে অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু প্রকল্পের আওতায়। এতে জমি অধিগ্রহণের জন্য অর্থের সংস্থান ছিল না। এ কারণে দেশব্যাপী এই প্রকল্পের আওতায় যতগুলো কাজ হয়েছে, কোনোটির জমি অধিগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়নি। তবুও এই সীমাবদ্ধতার বাইরে আমরা সেতুটি করে ফেলেছি। অধিগ্রহণের বিষয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে।
- বিষয় :
- সেতু