ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

দুই বছরের কাজ শেষ হয়নি পাঁচ বছরেও

দুই বছরের কাজ শেষ  হয়নি পাঁচ বছরেও
×
×

মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের কলিমাজানি নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতু সমকাল

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের কলিমাজানি নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা দুই বছরে। পাঁচ বছর পার হলেও সেতুর মূল কাজ শেষ হয়নি। ফলে এলাকাবাসীর ভোগান্তি শেষ হচ্ছে না। এই কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে সেটিই এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে কলিমাজানি নদীর ওপর ৯ কোটি ৪৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৮৮ টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কার্যাদেশ পায় মেসার্স দুর্গা এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড-আব্দুস সালাম খান নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তারা ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে সেতুর কাজ শুরু করেন। কিন্তু সেতুর মূল অংশের ৫০ শতাংশ শেষ হওয়ার আগেই কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। উপজেলা প্রকৌশল অফিসের চাপে পড়ে মাঝে মধ্যে কাজ করে আবার থেমে যায়। এভাবে দুই বছর পার করে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকে। দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সাল থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের অংশীদার শাজাহান পুনরায় সেতুর কাজ শুরু করেন। দুই বছরের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াই সোহাগপুর থেকে পিচ ঢালাই একটি রাস্তা কলিমাজানি নদীর পার পর্যন্ত পৌঁছেছে। নদীর উত্তরপার থেকে খেয়া নৌকা পার হয়ে কলিমাজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পথহারা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে শিক্ষার্থীরা। দক্ষিণপার থেকে খেয়ানৌকা পার হয়ে গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদ এবং বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা নিয়মিত যাতায়াত করছেন। সেতুটি নির্মাণ হলে দুই পারের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। কলিমাজানি, নয়াপাড়া, ভানুয়াবহ গ্রামের লোকজনের কালিয়াকৈর উপজেলার আড়াইগঞ্জ 
হয়ে ধামরাই, মানিকগঞ্জ ও ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে।
সরেজমিন দেখা গেছে, নদীর দুই পাশ থেকে সেতুর কাজ শুরু হয়েছে। মাঝখানে কিছু অংশ এখনও বাকি রয়েছে। খেয়াঘাট থেকে আগের মতোই কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা নদী পারাপার হচ্ছে। তবে সেতুর কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে খেয়াঘাট স্থানান্তর এবং নদী পারাপার আগের চেয়ে কষ্টসাধ্য হয়েছে। তবু স্থানীয়দের আশা নদীর 
ওপর সেতু হবে, সেই সেতুর ওপর দিয়ে হেঁটে নদী পার হবেন।

কলিমাজানি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হালিম আক্ষেপ করে বলেন, ‘অনেক আশা করেছি সেতুর ওপর দিয়ে হেঁটে নদীর ওইপার যাব। কাজের যে গতি তাতে সেই আশা পূরণ হবে কিনা বলতে পারছি না। সেতুটি তাড়াতাড়ি হওয়া দরকার।’
সাবঠিকাদার মো. পারভেস জানান, আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন স্থানে 
কয়েকটি কাজ পাওয়ায় এই কাজটিতে ভাটা পড়ে। তাছাড়া তাদের আর্থিক সংকটও হয়েছিল বলে শুনেছেন তিনি। এখন কাজ চলমান রেখেছেন তারা। দ্রুত সময়ে সেতুর মূল কাজ শেষ করতে পারবেন বলে আশা তার।
এলজিইডির মির্জাপুর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলামের ভাষ্য, সেতুটির কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ভালোভাবেই কাজ করে। হঠাৎ কেন যেন তারা কাজে গাফিলতি করে। তবে কাজ বাস্তবায়নে তাদের অফিস থেকে চাপ দেওয়া হয়। বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদাররা কাজ করছে। আশা করা যায় সেতুর মূল কাজ শেষ করতে আর বেশি সময় লাগবে না।

আরও পড়ুন

×