ইজিবাইকে পড়ল ক্রিকেট বল পাঁচ গ্রামবাসীর সংঘর্ষ
সংঘর্ষস্থল থেকে আহতদের পিকআপে তুলে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। গতকাল দুপুরে তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের মধ্য তাহিরপুর গ্রাম থেকে তোলা সমকাল
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩১
| প্রিন্ট সংস্করণ
তাহিরপুরে শিশুদের ক্রিকেট খেলার সময় ইজিবাইকে বল পড়াকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের লোকজনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের চারটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট এবং একটি ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে তাহিরপুর সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আহতদের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে বীরজয়-লক্ষ্মী-ধুতমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ক্রিকেট খেলার সময় একটি বল মধ্য তাহিরপুর গ্রামের অটোরিকশাচালক জালাল মিয়ার অটোরিকশায় গিয়ে পড়ে। এ নিয়ে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের হাফিজ মিয়ার সঙ্গে ক্রিকেট খেলোয়াড়দের কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এর জের ধরে ওইদিন বিকেলে তাহিরপুর বাজারে ধুতমা গ্রামের জসিম উদ্দিনকে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের কয়েকজন মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে হাফিজ মিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁর পক্ষের লোকজন। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার রাতে বীরনগর গ্রামে একটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর বুধবার সকালে বীরনগর, জয়নগর, লক্ষ্মীপুর ও ধুতমা গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের দিকে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষে বীরনগর গ্রামের ওয়াজ আলীর ছেলে মাইনুদ্দিন (৩৫), সুবাহানের ছেলে আশিষ মিয়া (৪০), আলীমের ছেলে রেজাউল (৩৫) ও নবী হোসেনের ছেলে খোকন মিয়া (৩৬) গুরুতর আহত হন। তাদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মধ্য তাহিরপুর গ্রামের দোকানদার দুলু মিয়া বলেন, চার গ্রামের লোকজন এসে আমাদের দোকানপাটে হামলা চালায়। দোকানের মালাপত্র লুট করে নিয়ে যায় এবং ভাঙচুর করা হয়। পরে একটি ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে।
মধ্য তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা তানিম আহমদ লিংকন বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে হামলার ঘোষণা দেন। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাদের বাধা দিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও তারা তা মানেননি। পরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আমাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। নারী-শিশুরাও হামলার শিকার হয়েছেন।
মধ্য তাহিরপুর গ্রামের খাদিজা বেগম বলেন, দেশি অস্ত্র ও দলবল নিয়ে লোকজন আমাদের বাড়ির দিকে আসার সময় ইউএনও, ওসি ও স্থানীয় নেতারা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। তারা কারও কথা না শুনে হামলা চালায়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, মসজিদের মাইক ব্যবহার করে লোকজন জড়ো করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
অভিযোগের ব্যাপারে বীরনগর গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া জানান, শিশুদের ক্রিকেট খেলার সময় ইজিবাইকে বল পড়া নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে মারধর ও পাল্টা মারধরের ঘটনা ঘটে। আজ (বুধবার) দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল; এলাকার লোকজন ও প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।
জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও তাহিরপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে মারামারি থেকে আজকের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আমরা লজ্জিত। সংসদ সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের বাড়ি এই এলাকায় হলেও আমরা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারিনি। উভয় পক্ষের অতিউৎসাহী কিছু লোকের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।’
তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমদ বলেন, মসজিদে মাইকিংয়ের পর থেকে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। ঘটনার সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
- বিষয় :
- সংঘর্ষ