ছুটির দিনে কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকের ভিড়
ছবি: সমকাল
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৪:৩৭ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৪:৪০
সাপ্তাহিক ছুটির দিন গতকাল শুক্রবার কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে নেমেছে পর্যটকের ঢল। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করায় সৈকতে বেড়েছে মানুষের উপস্থিতি। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দে মেতে থাকতে দেখা যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের।
সৈকতে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়লেও ভাটার সময় টাঙানো হয়েছে লাল পতাকা। সমুদ্রে গোসল করতে নেমে দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন লাইফগার্ড সদস্যরা।
গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, সৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাচ্ছেন। সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করার পাশাপাশি ছবি তুলে ছুটির দিনের মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করে রাখছেন অনেকে।
ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে আসা হুমায়রা ইয়াছমিন বলেন, ‘অনেক দিন পর কক্সবাজারে ঘুরতে এসেছি। আবহাওয়া আগের চেয়ে ভালো হওয়ায় সৈকতে এসে বেশ ভালো লাগছে। সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করছি, পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাচ্ছি।’
পর্যটক জেনিফা মারজান বলেন, ‘সমুদ্র আর আকাশ, এই যে সৌন্দর্য কোথাও পাওয়া যাবে না। সমুদ্রের ঢেউ আর নির্মল বাতাস ক্লান্তি দূর করার জন্য স্বর্গীয় সুখের মতো। সাগরকে ঠিক এভাবেই উপভোগ করি।’
স্থানীয় বাসিন্দা আহমেদ রফিক বলেন, ‘শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় বিকেল থেকে সৈকতে মানুষের ভিড় বেড়েছে। পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় অনেক মানুষও সৈকতে ঘুরতে আসছেন। আবহাওয়া ভালো হতে শুরু করায় সৈকতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে।’

সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন লাইফগার্ড সদস্যরা। তারা জানান, সমুদ্রের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো হলেও সতর্কতার অংশ হিসেবে ভাটার সময় লাল পতাকা টাঙানো রয়েছে।
সি-সেফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, ‘সমুদ্রের পরিস্থিতি ভালো আছে। তবুও সতর্কতার অংশ হিসেবে লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে। পর্যটকেরা পানিতে নামার পর যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে আমরা দায়িত্ব পালন করছি।’
এদিকে সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি ঝরনাসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতেও পর্যটকদের উপস্থিতি দেখা গেছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং পর্যটন শিল্পের ভালো ব্যবস্থাপনা সব সময় আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা নজরদারি করছি, যাতে কেউ অতিরিক্ত দাম নিতে এবং পর্যটকদের কোনো ধরনের হয়রানি করতে না পারে।’
কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, ‘সাগরের টানে কক্সবাজারের পথে পথে যেমন বাড়ছে পর্যটকের আনাগোনা, তেমনি নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় সবার সচেতনতাও প্রয়োজন।’
- বিষয় :
- কক্সবাজার