ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ডের নামে বিধবার টিপসই নিয়ে ‘কাবিন’, দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা

ফ্যামিলি কার্ডের নামে বিধবার টিপসই নিয়ে ‘কাবিন’, দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা
×
×

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ ও ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৪:৫৯

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় সরকারি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক বিধবার টিপসই নিয়ে জাল কাবিননামা তৈরির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে স্থানীয় দুই বাসিন্দার বিরুদ্ধে ফুলবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন- স্থানীয় জামায়াতকর্মী হিসেবে পরিচিত আবদুস ছাত্তার, এবং আবদুল কুদ্দুস।

থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৩ বছর আগে ৪৩ বছর বয়সী ওই নারীর স্বামী মারা যান। সম্প্রতি অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার সরকারি ফ্যামিলি কার্ড করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি সংগ্রহ করেন। একপর্যায়ে কৌশল অবলম্বন করে একটি ফাঁকা কাগজে ওই নারীর টিপসই নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেই টিপসই জালিয়াতি করে আবদুল কুদ্দুসের সঙ্গে আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর ও ৫০ হাজার টাকা উসুল দেখিয়ে একটি ভুয়া কাবিননামা তৈরি করা হয়।

পরবর্তীতে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কাবিননামায় উল্লিখিত কাজি গোলাম মোস্তফা জানান, আমি এই বিয়ে করাইনি। আমার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এই ভুয়া কাগজ তৈরি করা হয়েছে। 

এমনকি কাবিননামায় নাম থাকা সাক্ষী সাইফুল ইসলামও জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তিনি এ-সংক্রান্ত কোনো বিয়ের সাক্ষী ছিলেন না।

সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে গত সোমবার ও গত বুধবার স্থানীয়ভাবে দুই দফা সালিশ বৈঠক আহ্বান করা হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাতে উপস্থিত হননি। সালিশ অকার্যকর হওয়ায় অবশেষে গত বৃহস্পতিবার রাতে ফুলবাড়িয়া থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী।

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। জালিয়াতির প্রমাণ সংগ্রহসহ ঘটনার সঠিক তদন্তে কাজ করছে পুলিশ। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এদিকে অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তাকে এই মামলায় জড়ানো হচ্ছে।

অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক জানান, ‘অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার দলের কোনো পদধারী নেতা নন, অতীতে তিনি অন্য রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।’ জালিয়াতির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন

×